
আগামী বছরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে পারে। এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ। গতকাল রবিবার প্রক্টর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করার কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন আমাদের জন্য খুবই জরুরি। কারণ শিক্ষার্থীদের মতামত আমাদের জানতে বেশ বেগ পেতে হয়। ডাকসু নির্বাচন হলে এই প্রক্রিয়াটি আমাদের জন্য আরো সহজ হবে।’
প্রক্টর এ-ও বলেন, ‘তবে এখানে বেশ কিছু সমস্যা আছে। ডাকসুর রিফরমেশনের প্রয়োজন আছে। গঠনতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়েছে ছাত্রসংগঠনগুলো।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচনের দাবি বেশ পুরনো। প্রতিবছরই এই দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্র সংগঠনগুলো। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনে ডাকসু নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর শাসক দলগুলোর প্রভাবে এই নির্বাচন প্রায় তিন দশক বন্ধ ছিল।
তবে ২০১২ সালের ১১ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। ২০১৭ সালের ৪ঠা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ডাকসু নির্বাচন অত্যাবশ্যক, 'তা না হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাবে।’এরপর ছাত্রদের অনশন এবং আগে দায়ের করা রিটটি পুনরুজ্জীবিত হলে ২০১৮ সালের ১৭ই জানুয়ারি উচ্চ আদালত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। তবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ তাতেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠান রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এর জবাব না পেয়ে ১২ সেপ্টেম্বর উপাচার্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন তিনি। এরপর উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮'র ১৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ঘোষণা দেয় যে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ডাকসুর নির্বাচন।
ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তদানীন্তন ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতীম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের প্রার্থী ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে পরাজিত করে ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট বা সহসভাপতি) নির্বাচিত হন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ও ওই প্যানেলের প্রার্থী নুরুল হক নুর। ওই নির্বাচনের পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় ডাকসু নির্বাচন। গত ৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোন ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতারা আবারও ডাকসু নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। তবে এবার ইস্যু গঠণতন্ত্র সংশোধন।







































