
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দীঘলদি গ্রামে একই রাতে ছয়টি বাড়িতে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল বুধবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ ও সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। বারবার ডাকাতির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে ৭–৮ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত প্রথমে আখতার হোসেন ঢালীর বাড়িতে হানা দেয়। দরজা ভেঙে তারা ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ, ২টি ল্যাপটপ ও মোবাইলফোন লুট করে। এরপর তারা ধারাবাহিকভাবে আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ, জামান ডাক্তারের ভাড়াটিয়ার বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণ, সজল ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে ১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা এবং নারিংদী এলাকার দুটি বাড়ি থেকেও মূল্যবান মালামাল লুট করে।
ডাকাত দলের সদস্যদের বয়স আনুমানিক ২২ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রত্যেকের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল এবং সবাই সশস্ত্র অবস্থায় ছিল।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মন্দি ইউনিয়নের দীঘলদি গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মুহাম্মদ উজ্জল খান বলেন, “আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনা এটা নতুন কিছু নয়। ডাকাতি রোধে পাড়া-মহল্লায় রাত জেগে পাহারা দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এসব ডাকাতদের ধরা যায় না। ধরা পড়লেও কিছু উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে দিয়ে দিলে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে। আড়াইহাজারকে ডাকাতের স্বর্গরাজ্য বললে ভুল হবে না।”
এ ঘটনায় পুরো আড়াইহাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেননি।





























