
স্টাফ রিপোর্টার :মোঃ মানিক মিয়া
নেত্রকোনার আটপাড়ায় নির্মমভাবে হত্যা করে ছিনতাই করা হয়েছে সোহাগ চৌধুরী (৪৫) নামে এক ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালককে। সংসারের হাল ধরতে প্রতিদিন রোদ–বৃষ্টি উপেক্ষা করে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করতেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতের অন্ধকারে ছিনতাইকারীর হাতেই শেষ হয়ে যায় তার জীবন।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সুখাইর ইউনিয়নের বাউসা হাওরের জনমানবহীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে আটপাড়া থানার ওসি আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহত সোহাগ খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দীপুর গ্রামের মৃত মতিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে। রেখে গেছেন এক ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রীসহ ছয় সদস্যের পরিবার। পরিবারটির একমাত্র ভরসা ছিলেন সোহাগ।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন সোহাগ। রাতের দিকে মদন থেকে যাত্রী নিয়ে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছাতে পারেননি তিনি। বাউসা হাওরের নির্জন পথেই দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
স্বামীর মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী আজিদা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“চারটা সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচবো? সংসারের একমাত্র আশাটাকে কেড়ে নিল ওরা। দেড় বছর আগে শাল্লায় অজ্ঞান করে মোটরসাইকেল নিয়েছিল, অনেক কষ্টে আবারটা কিনেছিলাম। এবার মোটরসাইকেল নিল, আর মানুষটাকেও মেরে ফেলল… আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।”
স্থানীয়রা বলছেন, হাওরপারের এসব পথে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে, কিন্তু প্রতিরোধ বা সুরক্ষা—কোথাও তেমন ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই বের হন এসব চালকরা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষ জড়ো হয়ে একটিই কথা বলছেন—
“একটা মোটরসাইকেলের জন্য একটি মানুষের জীবন—এ যেন অমানবিকতার চরম নিদর্শন।”
নিহতের পরিবারের এখন একমাত্র দাবি—দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।





























