
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঘড়ির কাটায় দুপুর বারোটা। ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। বারান্দায় জ্বলছে দুটো বৈদ্যুতিক বাল্ব।সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারন করা দেখেই এক নারী এসে দ্রুত সুইচ টিপে বন্ধ করে দেন বাল্ব দুটো। পরিচয় জানতে চাইলে জানালো গ্রাম পুলিশ নাম মরিয়ম নেছা। সকাল নয়টায় এসেছেন তিনি।এখন কয়টা বাজে? প্রশ্ন করতেই তিনি মুঠোফোন দেখে জানান ১২ টার উপরে। পরনে সরকার নির্ধারিত গ্রাম পুলিশের ইউনিফর্ম নেই তার। জানতে চাইলে বললেন প্রতিদিনই ইউনিফর্ম পরেন তবে আজকে পরেননি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কোথায়? বললেন এখনো তিনি আসেনি।ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা সারোয়ার হাসানের রুমে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সদুত্তর না দিয়ে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি এড়িয়ে সাংবাদিককে উল্টো তিনি সরকারি অর্থের অপচয়ের প্রকারভেদ শুনাতে শুরু করেন। এবং অপচয়ের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বিভিন্ন কৌশলী যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করেন।'দিনের বেলায়ও বাল্ব জ্বলছে' এমন চিত্র এই কর্মকর্তার নজরে পরেনি। সাংবাদিক প্রমাণ আছে বললে এবং অপ্রয়োজনে দিনের বেলায় বাইরে লাইট জ্বলা এটি অপচয়ের কোন ক্যাটাগরির ভিতরে পরে জানতে চাইলে তিনি জানান এটি 'মিসটেকেল্লি' হয়েছে। ইউপি কর্মকর্তার দাবি, বাল্ব জ্বালানো ও বন্ধ করার দায়িত্ব গ্রাম পুলিশের।বাইরে সেবার জন্য আসা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান,এমন অপচয় এই পরিষদে সবসময় হয়। সারাদিনও জ্বলে লাইট। আক্ষেপ প্রকাশ করে একজন বলেন, আপনারা আসছেন বিধায় বন্ধ করছে। এমন চিত্র সবসময় ঘটে।প্রশাসনিক কর্মকর্তার সামনেই উপস্থিত একজন ইউপি সদস্য স্বীকার করেন দিনের বেলায় বাল্ব জ্বলার বিষয়টি সত্য। তিনি নিজেও পরিষদে এসে ইউপি সচিবকে বলে ছিলেন আজকে কার ডিউটি। তিনি দিনের বেলায় অপ্রয়োজনে বাল্ব জ্বালানোর বিষয়টি সরকারি অর্থের অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলাজনিত ভুল বলে মন্তব্য করেন।এই ইউপি সদস্য মনে করেন রাষ্ট্রের টাকা মানে জনগণের টাকা। মাস শেষে সরকারি টাকায় দিতে হয় বিল। সরকারি অর্থ অপচয় রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে আর এমন ভুল না হওয়ার কথাও বলেন তিনি।একজন সেবাগ্রহীতা জানান, সকাল ৯ টায় পরিষদে এসেছেন তিনি। এখন ১২ টার উপরে বাজে। তবুও ইউপি চেয়ারম্যানের দেখা মেলেনি। একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছে না তিনি। প্রায় পনেরো দিন ধরে তিনি জন্মনিবন্ধনের জন্য ঘুরছে। আর এ ঘটনাটি ঘটে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বলিয়ারদী ইউনিয়ন পরিষদে। ৫ আগস্টের পর পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পলাতক থাকায় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলামকে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাদিকবার সংবাদকর্মী কল দিয়েও বক্তব্য নিতে পারেনি।





























