
স্টাফ রিপোর্টার: একসময় টাঙ্গুয়ার হাওর ছিল মাছ,ফসল আর জীবনের প্রাচুর্যে ভরপুর।বর্ষা এলেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসত জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু এখন চিত্রটা উল্টো হাওরের মানুষই জীবিকার তাগিদে অন্যত্রে ছুটছে।
হাওর পাড়ের প্রবীণ মৎস্যজীবী আব্দুল হান্নান (৬৫) বেদনাভরা কণ্ঠে বলেন,আগে আমাদের হাওরে বাইরের মানুষ কাজ করতে আসত, এখন আমরাই জীবিকার তাগিদে হাওর ছেড়ে অন্যত্রে যাই। মাছ নাই, ফসল নাই হাওর এখন বোঝা হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,কয়েক বছর আগেও টাঙ্গুয়ার হাওর ছিল হাজারো পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। বর্ষায় মাছ ধরার মৌসুমে জমজমাট থাকত হাওরের প্রতিটি অংশ। কিন্তু এখন মাছ পাওয়া দুষ্কর।মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে সারাবছর কোনাজাল দিয়ে অবৈধ মৎস্য আহরণ,মৌসুমে ইলেকট্রিক শক মেশিন ও সেচ দিয়ে মাছ ধরার কারণে। এতে হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত দখল, বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার ও প্রভাবশালীদের আধিপত্যে হাওরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টি এখন হাওরবাসীর নিত্যসঙ্গী। প্রতি বছর ফসলহানির কারণে কৃষকরা পড়ছেন চরম সংকটে। অনেক পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে জীবিকার খোঁজে শহরমুখী হচ্ছে। কেউ রাজমিস্ত্রি,কেউ রিকশাচালক হাওরের মানুষ এখন কষ্টের সঙ্গে নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় যুবক দেলোয়ার মিয়া বলেন,হাওরে আগের মতো কাজ নেই। এখন কাজের খোঁজে সিলেট বা ঢাকায় যেতে হয়। হাওর ছেড়ে থাকাটা কষ্টের, কিন্তু পেটের দায়ে উপায় নাই।”
টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি আল আমিন বলেন,টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার। অথচ অনিয়ন্ত্রিত দখল, দূষণ ও পরিকল্পনার অভাবে এই হাওরের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।তারা মনে করেন, হাওর টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয়দের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, টেকসই মাছ ধরা ব্যবস্থা এবং পর্যটন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রবীণ হান্নানের মতো অসংখ্য হাওরবাসীর কণ্ঠে আজ একটাই প্রশ্ন যে হাওর আমাদের বাঁচিয়ে রাখত, আজ সেই হাওরই আমাদের বাঁচাতে পারছে না কেন?




























