
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বগুয়ার উদ্যোগে গণশুনানি-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অধিদপ্তরের আওতাধীন সেবাগ্রহীতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক অধিশাখার উপসচিব মোঃ মাহবুব আলম বলেন,“মাদক একটি ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের সরাসরি মতামত পাওয়া গেলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।”
তিনি ডিএনসি বগুড়ার চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সরকার মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা) মাজহারুল ইসলাম বলেন,“শুধু অভিযান নয়, মাদক নিরোধে ক্রীড়া, শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগাতে হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), বগুড়া বলেন,“মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ডিএনসি যৌথভাবে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে মাদক চক্রকে আরও সহজে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।”
সিভিল সার্জন, বগুড়া বলেন,“মাদকাসক্তি একটি রোগ। চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বগুড়ার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেন বলেন,“মাদক নির্মূল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত বগুড়া গড়ে তোলা সম্ভব।”
স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা: জিললুর রহমান বলেন,“বগুড়াকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। গণশুনানির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি মতামত ও অভিযোগ শুনে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়, যা আমাদের কাজকে আরও গতিশীল করবে।”
তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণশুনানিতে শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশ ইমাম, ডাক্তার, এনজিও প্রতিনিধি ও সেবাগ্রহীতাগণ মাদকবিরোধী অভিযানের জোরদারকরণ, চিকিৎসা সেবার বিস্তার, পুনর্বাসন কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে ডিএনসি কর্মকর্তারা প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর প্রদান করেন।
সমাপনী অংশে বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে বগুড়া জেলার প্রশাসন, সাংবাদিক, বিভিন্ন দপ্তর ও সর্বস্তরের জনগণ একযোগে কাজ করলে সফলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া মাদকাসক্তিমুক্ত বগুড়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।





























