
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা সরকার যখনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও বৈধতার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখনই পাশে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব যখন বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিয়ে সরব ছিল ইরান তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি বজায় রেখে শেখ হাসিনা সরকারকে ডি-ফ্যাক্টো বৈধতা দিয়ে গেছে।২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পশ্চিমা দেশগুলো ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশ যখন এই নির্বাচনকে "ডামি" বলে তখন ভারত,রাশিয়াসহ যে গুটিকয়েক দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নেয় ইরান তাদের অন্যতম। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছিল, তারা বিদ্যমান সরকারের সঙ্গেই রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতি ইরানের সমর্থন কেবল মৌখিক ছিল না, বরং তা ছিল কূটনৈতিকভাবে বেশ জোরালো।২০১৪ সালের নির্বাচনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে এবং নতুন সরকারের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে। ২০১৮ সালের তথাকথিত মধ্যরাতের নির্বাচন নিয়ে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি শেখ হাসিনাকে নিরঙ্কুশ বিজয়ে অভিনন্দন জানান। সে সময় ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক আবেগঘন বার্তায় হাসিনাকে বলেছিলেন, "ইরানের সব মানুষ আপনাকে ভালোবাসে।"২০২৪ সাল: সবশেষ নির্বাচনে পশ্চিমা চাপের মুখেও ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ব্যক্তিগত অভিনন্দন বার্তা পাঠান। তিনি এই বিজয়কে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের জয় হিসেবে উল্লেখ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেন।বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের এই ভূমিকা তাদের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতিরই অংশ।পশ্চিমা বিশ্বের নির্বাচনভিত্তিক বৈধতা’র ধারণাকে পাশ কাটিয়ে 'Non-interference' বা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাসী। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবারই বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলেছে।অবশ্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ থেকে পলায়নের পরে ইরানের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এলেও তা ছিল সৌজন্যমূলক। ইরান সরাসরি কোনো নেতিবাচক সমালোচনা না করে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।





























