
তানজিদ শুভ্র: বাংলাদেশের এফএম রেডিও জগতে তরুণ শ্রোতাদের কাছে এক পরিচিত নাম আরজে আকাশ। মাইক্রোফোনের সামনে তার সহজ-সরল, প্রাণবন্ত উপস্থাপনা শ্রোতাদের মন জয় করেছে বহু আগেই। একসময়কার নিয়মিত কণ্ঠ এখন আবার শোনা যাবে নতুন উদ্যমে।
আকাশের রেডিও যাত্রা শুরু হয়েছিল পিপলস রেডিওতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এরপর যোগ দেন রেডিও ধ্বনিতে, যেখানে দীর্ঘদিন ‘হ্যাজাক বাতি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন শ্রোতাদের প্রিয় মুখ। রাতের নিঃশব্দ সময়ে তার আড্ডায় সজীব হয়ে উঠত হাজারো শ্রোতার মন।
শ্রোতাদের ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তার পথ ধরে আকাশ পরে যুক্ত হন ক্যাপিটাল এফএম-এ। কখনো সকালে ‘গুড মর্নিং ক্যাপিটাল’ দিয়ে শুরু করেছেন শ্রোতাদের দিন, হাসি, আড্ডা আর খুনসুটিতে ভরিয়ে। আবার কখনো ছিলেন ‘ক্যাপিটাল ককটেল শো’-এর প্রাণকেন্দ্রে। শুধু ফ্রিকুয়েন্সিতেই নয়, ফেসবুক লাইভে এসেও তিনি শ্রোতাদের সাথে মেতে উঠতেন এক ভিন্ন আড্ডায়।
রেডিওতে শো উপস্থাপনার পাশাপাশি মাঝে মাঝে সংবাদ পাঠেও শোনা গেছে তার কণ্ঠ। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, শ্রোতাদের সাথে তার সংযোগ ছিল আন্তরিক। ফোন কলে ভক্তদের সরাসরি যুক্ত করে অনুষ্ঠান চালাতেন তিনি, আর শ্রোতারাও প্রিয় আরজের সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আনন্দে ভরে যেতেন।
তবে মাঝখানে একটা দীর্ঘ সময় মাইক্রোফোন থেকে দূরে ছিলেন আকাশ। শ্রোতারাও হয়তো খুঁজে ফিরেছেন সেই প্রাণবন্ত কণ্ঠ। অবশেষে আবারও ফিরলেন মাইক্রোফোনের টানে—এবার শোনা যাচ্ছে জাগো এফএম-এর হ্যালো মর্নিং শো-তে। নতুনভাবে যাত্রা শুরুতে আকাশের কণ্ঠ আবার ছড়িয়ে দেবে প্রাণের উচ্ছ্বাস, তরুণ প্রজন্মকে দিবে নতুন এক সকাল। শনি থেকে বৃহস্পতি নিয়মিত সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জাগো এফএম এর ফ্রিকুয়েন্সি ৯৪.৪ এ শোনা যাবে।
রেডিওর পাশাপাশি আকাশ নিজের প্রতিভা ছড়িয়ে দিয়েছেন অভিনয়ের মঞ্চেও। বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। অভিনয় আর রেডিও—দুটোকেই নিজের ভালোলাগার জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তার ভাষায়, “অভিনয় এবং রেডিওতে শো করা দুটোই আমার অনেক ভালবাসার জায়গা। যেহেতু আমার যাত্রার শুরুটা হয় রেডিও থেকে, রেডিওর প্রতি আলাদা ভালোবাসা, একটা আবেগ বরাবরই কাজ করে।”
শুধু অভিনয়-উপস্থাপনাতেই নয়, আকাশের রয়েছে গান গাওয়ার প্রতি ঝোঁক। তার কণ্ঠে সুরের আভাস বহু শ্রোতা আগেও শুনেছেন। আকাশের বলেন, “ভালো গান করি কিনা জানি না, তবে মাঝে মাঝে গুনগুন করি এবং এটাকে আমি বেশ উপভোগ করি। সামনে যদি কখনো সেই রকম সুযোগ আসে তাহলে অবশ্যই ইচ্ছা আছে কাজ করার।”
একজন আরজের জন্য মাইক্রোফোন মানে কেবল একটি মাধ্যম নয়, বরং আবেগ, ভালোবাসা আর পরিচয়ের প্রতীক। আকাশের জীবনে রেডিওর গুরুত্ব তাই অন্য রকম। মাঝে সময়ের ব্যবধান থাকলেও আবারও সেই কণ্ঠ ফিরেছে এফএম ব্যান্ডে। মাইক্রোফোনে তার হাসি, আড্ডায় আবারও উজ্জীবিত করবে শ্রোতাদের মন।







































