
◾ পাহাড়ি জনপদে রাত নামলেই আতঙ্ক
◾ধারাবাহিক ডাকাতি–খুনে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা
◾দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ির দাবি—প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
ইয়ার রহমান আনান: কক্সবাজার ব্যুরো
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে ক্রমবর্ধমান ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে দ্রুত একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।পাহাড়ি জনপদ হওয়ায় রাত নামলেই এই এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়, ভয়ে পথ চলেন সাধারণ যাত্রীরা।
ইউনিয়নটিতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট ‘নিভৃতে নিসর্গ পার্ক’, প্রতিদিনই যেখানে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর সুরাজপুর-মানিকপুর সড়ক যেন ডাকাতদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—আঁধার নামলেই ওঁত পেতে থাকা আন্তঃজেলা ডাকাতদলের হামলার শিকার হন যাত্রী ও পথচারীরা। এতে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে।
সচেতন মহল বলছে, টহল পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই ডাকাতদের কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গত এক বছরে মর্মান্তিক মৃত্যু, ছিনতাই, মারধর ও বাইক লুট—এমন বহু ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
সম্প্রতি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং, বুধবার রাতে নিভৃত নিসর্গ পর্যটন স্পটের অদূরে সেগুনবাগান এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে হত্যা চেষ্টা এবং তার মোটরসাইকেল ও টাকা লুটের ঘটনা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর আগে গত এক বছরে বিভিন্ন সময় বহু ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এরও আগে ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ইং, মঙ্গলবার রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম (৪৩) ও শফিউল আলম (৪৪) নামে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউনিয়নের উত্তর পাড়া নবীন ক্লাব এলাকায়। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ ইং, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন সড়কে রাত্রিকালীন ডাকাতি প্রতিরোধে ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত ‘মানবিক পাঠশালা ইউথ ফাউন্ডেশন’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইরানুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাছিন রাজ্জাক আলভি স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদনপত্র কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য-“আমাদের এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো পুলিশ ফাঁড়ি নেই। তাই ডাকাতি-ছিনতাই, চুরি, খুনসহ অপরাধ বেড়েই চলেছে। আমরা দ্রুত এর থেকে পরিত্রাণ চাই।”
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন,“ওই ইউনিয়নে কোনো স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় ডাকাত দমনে বিগ্ন ঘটে।আমরা ও চাই সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে একটা পুলিশ ফাঁড়ি হউক।বিষয়টি পক্রিয়াধীন,তবে চকরিয়া থানার একটি টহল টিম নিয়মিত পাহারা দিচ্ছে। ডাকাত দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন,
“সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে।পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় রিপোর্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।পুলিশ ফাঁড়ির বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিবে।





























