
আরফাত হোসেন- বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ দোহাজারী জামিরজুরী এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে মাটিদস্যুরা। খবর পেয়ে গত ২২ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান বলে জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দনাইশ দোহাজারী জামিরজুরী হাফছড়িকুল এলাকার বেশ কিছু পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে গেছে মাটি খেকোরা। চন্দনাইশের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড় কাটে মাটি নিয়ে যায় বিভিন্ন ইটভাটায়, পুকুর ভরাট, ভিটি ভরাট করে ঘর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এ মাটি। বেআইনিভাবে পাহাড় কাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এদিকে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহন করতে গিয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে চন্দনাইশের বিভিন্ন অভ্যন্তরিন সড়কগুলো। মাটিবাহী ডাম্পার চলাচলের কারণে বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। তবে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও চন্দনাইশে তা মানা হচ্ছে না। প্রচলিত আইন অমান্য করে পাহাড় কাটায় ক্ষোভ জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে দিনরাত সমান তালে কাটা হয় পাহাড়। পাহাড় কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায়, ফসলি জমি ও ভিটে ভরাট করার কাজে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও থামছে না পাহাড় কাটা। এভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পবিরেশবাদীরা। দোহাজারী পৌরসভার জামিরজুরী হাফছড়িকুল, কাঞ্চননগর, হাশিমপুর পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটিদস্যুরা। এ সকল পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ঘিরা রয়েছে বসতবাড়ী। হাশিমপুর বটতলা এলাকায় কোন প্রকার বাধাহীনভাবে একটি পাহাড়ের সিংহভাগ কেটে সমতল করে ফেলেছে মাটিদস্যুরা। স্থানীয়রা জানান, একটি প্রভাবশালী মহল, সেন্টিকেটের মাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাব কাটিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড়ের মাটি কেটে মাটি ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে কর্তন করা পাহাড় ধসে পড়ার আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। প্রশাসনিকভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এ অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। অবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দীন বলেছেন, পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সবসময় তৎপর রয়েছে।দোহাজারীতে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান। তদন্ত রির্পোট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে। নতুন করে পাহাড় কাটার সংবাদ পেলে অভিযান পরিচালনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নিয়ম না মেনে পাহাড় কাটার সুযোগ নেই। প্রচলিত আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চন্দনাইশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেছেন, জামিরজুরী হাফছড়িকুল এলাকায় পাহাড় কর্তনের সংবাদ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা বলেছেন, পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মমর্তার নির্দেশে তিনি গত বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যান। পাহাড় কাটার বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এখানে টিলা, নাল জমির মাটি বেআইনি ভাবে কেটে নিয়ে গেছে ইহা আইন বিরোধী কার্যকলাপ। আমাদের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের প্রতিনিধি রয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখেছেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। তাছাড়া ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া গেলে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ ও মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হতো।





























