
ইউরোপীয়রা জানত আমিই ইলেকশনে জিতে আসব,মজুতকারীদের গণধোলাই দেওয়া উচিত,বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে,‘আগামীতে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না’,বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে,বিশ্ব মোড়লরা দুমুখো নীতিতে বিশ্বাস করে,২৮ অক্টোবর ছিল ষড়যন্ত্রের অংশ,
নির্বাচনের আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ‘নির্বাচন বানচালের ঝড়যন্ত্রের অংশ ছিল’ বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আরো পড়ুন দেশে বাড়ছে বেকারত্ব
তিনি বলেছেন, “এগুলো যে হঠাৎ করে করা তা তো না, এটা পরিকল্পিতভাবে।”
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে শুক্রবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই এক প্রশ্নের উত্তরে তার এ মন্তব্য আসে।
প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দেশে মার্চের দিকে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে বলে তিনি নির্বাচনের আগে মন্তব্য করেছিলেন, সেই শঙ্কা এখনও আছে কি না। আর বাজার কারসাজি কীভাবে মোকাবেলা করা যায়।
উত্তর দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “ষড়যন্ত্র তো ছিল, ষড়যন্ত্র তো আছে। আপনারা জানেন, আমি আসার পর থেকে বার বার আমাকে বাধা দেওয়া, ক্ষমতায় যেন না যেতে পারি। ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার ঘটনাই ধরেন না কেন, রাসেলকেও তো ছাড়েনি, কেন, যেন ওই রক্তের কেউ বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে।
“আমি আর আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম, বেঁচে গেছি, ফিরে এসে দায়িত্ব নিয়েছি। আমার চেষ্টাই হচ্ছে, যে স্বপ্ন নিয়ে জাতি দেশ স্বাধীন করেছে, সেটাকে পূরণ করা। ষড়যন্ত্র প্রত্যেকবারই হচ্ছে, বারবার…। আজকে মানুষের ভোটের অধিকার, আমরাই আন্দোলনের মাধ্যমে সেটা প্রতিষ্ঠিত করেছি, গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে এনেছি, তার সুফল দেশবাসী পাচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনটা যাতে না হয়, তার জন্য একাটা বিরাট চক্রান্ত ছিল, আপানার জানেন। আপনারা ২৮ অক্টোবরের ঘটনাটা একবার চিন্তা করেন। ২০১৩ সালের যে অগ্নিসন্ত্রাস, ২০১৩, ১৪, ১৫, এরপর আবার গতবছর ২৮ অক্টোবর।”
জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘সরকার পতনের’ এক দফা দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। সেদিন দুপুরের আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরুর পর কাছেই কাকরাইল মোড়ে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে শান্তিনগর, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, আরামবাগ এবং দৈনিক বাংলা মোড়ে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় আরও ডজনখানে যানবাহনে। হামলা করা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে।
দৈনিক বাংলা মোড়ে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সংঘাতে প্রাণ যায় যুবদলের মুগদা থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা শামীম মোল্লার।
এরপর বিএনপি টানা হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচিতে ফিরে যায়, তাতে ফিরে আসা যানবাহনে আগুন দেওয়ার পুরনো ধারার নাশকতা।
বিএনপির বর্জনের মধ্যেই ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
সেই ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “যারা এই ধরনের নির্বাচন বানচালের পক্ষে, তারা যখন দেখল যে ইলেকশন কিছুতেই আটকাতে পারবে না, কারণ মানুষের একটা স্বতঃস্ফূর্ততা আছে, তখন চক্রান্ত হল যে জিনিসের দাম বাড়বে, সরকার জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে, তখন আন্দোলন করে সরকারকে উৎখাত করব। এটা তাদের পরিকল্পনার অংশ।
“কাদের সেটা আপনারা ভালো বোঝেন, আমি আর কারো নাম বলতে চাই না, বলার দরকারও নেই আমার। কিন্তু এই চক্রান্তটা আছে। তবে এই কথাটা আমি বলতে পারি, এই যে কালকে বৃষ্টি হল না? কথায় তো আছে, ‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজা পূণ্য দেশ’।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাঘের শেষে কিন্তু বৃষ্টি হল, আবার এই ফাল্গুনের শুরুতেও কিছু বৃষ্টি। আমের মুকুলগুলি আবার তরতাজা হয়ে উঠছে। ক্ষেতে কেবল ধানের চারা রোপণ...সেখানেও সেচের আর প্রয়োজন হবে না এই বৃষ্টি যদি ভালোভাবে হয়। মাটির ময়েশ্চার বাড়বে, ফসল ভালো হবে। ফুলের হয়ত একটু ক্ষতি হবে, কিন্তু খাদ্যপণ্য উৎপাদনের কোনো অসুবিধা হবে না।”
সেই মহামারীর সময় থেকে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের খাদ্য নিজেদের উৎপাদন করতে হবে। এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদী না থাকে এবং সেটা শুধু বলা না, কার্যকরও করেছি।”
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “এক সময় তো বাংলাদেশে অভাব হলে বলত পেটে ভাত নাই। এখন কি সেই কথাটা বলে? বলে না।
“কী বলে? ডিমের দাম, পেঁয়াজের দাম, মুরগির দাম, গরুর মাংসের দাম, অথবা পাঙ্গাস মাছের পেটি খেতে পারছেন, এই তো? এটা কি একটা পরিবর্তন না? ১৫ বছরে তো এই পরিবর্তনটা এসেছে, সেটাতো স্বীকার করবেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৫ বছর আগে কী ছিল? ভাতের জন্য হাহাকার ছিল। একটু নুন ভাত, ভাতের ফ্যান চাইত, এখন তো ভিক্ষা চায় না।”
প্রশ্নকর্তা সাংবাদিককে তিনি বলেন, “আপনি নিজেই তো বললেন, ডিম লুকিয়ে রেখে দাম বাড়ানো। আপনার কি এটা মনে হয় না, এই যে যারা সরকার উৎখাতের আন্দোলন করে, এখানে তাদেরও কিছু কারসাজি আছে?
“এর আগে এরকম পেঁয়াজের খুব অভাব, দেখা গেল বস্তাকে বস্তা পচা পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছে। এই লোকগুলিরে কি করা উচিত? সেটা আপনারাই বলেন। এদের গণধোলাই দেওয়া উচিত। কারণ সরকার করলে বলবে সরকার করছে। পাবলিক করলে কিছু বলতে পারবে না।”







































