
গত ২৯ জুন, রবিবার ঢাকার মতিঝিলে এক মনোমুগ্ধকর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফল উৎসব। আষাঢ়ের নরম বৃষ্টির সন্ধ্যায় দেশীয় মৌসুমী ফলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এই উৎসবে। দেশীয় মৌসুমী ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা ও কৃষি অর্থনীতিতে এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জলবায়ু ও উর্বর মাটিতে জন্ম নেওয়া ফল যেমন আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, তরমুজ, পেয়ারা, আনারস, করমচা ইত্যাদি শুধু সুস্বাদু নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।
একসময় গ্রামীণ সমাজে প্রতিটি মৌসুমে ফলভিত্তিক উৎসব থাকলেও গ্রামে এবং শহরে সেই উৎসব প্রায় হারাতে বসেছে। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে এবং শহরের মানুষকে দেশীয় ফলের স্বাদ ও গুরুত্ব বুঝানোর লক্ষে ঢাকাস্থ কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া সম্মিলিত যুবপরিষদ উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এ ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফলের প্রদর্শনীর পাশাপাশি ছিল স্বাদ গ্রহণের সুযোগ। অতিথিরা আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, করমচা, আমড়া, পেয়ারা, তরমুজ, লটকন, কলাসহ নানা রকম ফল উপভোগ করেন।
দেশীয় ফল নিয়ে এমন উৎসব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নিজের শেকড়কে ভালোবাসার গুরুত্ব, আর সেই শেকড়েরই একটি বড় অংশ হলো আমাদের কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্য।
কৃষকের উৎপাদিত দেশীয় ফলের চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। অথচ অনেক সময় বিদেশি ফলের পেছনে ছুটার ফলে আমাদের দেশীয় ফলের গুরুত্ব হারাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফল সম্পর্কে সচেতন করতে পারলে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের পাশাপাশি দেশীয় কৃষিপণ্যকেও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। এ আয়োজন শুধু উৎসবই নয়, বরং দেশীয় কৃষিপণ্য, বিশেষ করে দেশীয় ফলের গুরুত্ব ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরার এক চমৎকার প্রয়াস হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা জনাব শফিউল্লাহ দিদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জনাব জাকিরুল ইসলাম পলাশ এবং উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক জনাব এনামুল হাছানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এই ফল উৎসব শহরের নাগরিক জীবনে নতুন করে দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা করছেন।
শুভ্র/





























