
দেশে সহিংসতা, সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্যের মধ্যে অর্থনৈতিক সংকট ধেয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সংকট আগেও ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও নাজুক করেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারকে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দিকে নজর দিতে হবে। এই সহিংসতা এবং তাণ্ডবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতি বলেও জানা গেছে।
মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস, সেতু ভবন, দুর্যোগ ভবন সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ফলে যে ক্ষতিগুলো হয়েছে সেই ক্ষতি গুলোর একটি আনুমানিক হিসাব করা হয়েছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এর বাইরে বেসরকারি খাতের যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতি এই হিসেবে আওতার মধ্যে নেই। বেসরকারি খাতে ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বিশেষ করে এই কয়েক দিনের তাণ্ডবের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ জনজীবন অচল ছিল। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এটির ফলে রফতানিতে একটি বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সরকারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা দেখা যাচ্ছে তা হল ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’। এই সময় বাংলাদেশের বাইরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা বিক্ষোভ করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে কিছু প্রবাসী আটক হয়। এদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা এক ধরনের প্রচারণা করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সেখানে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে যেন এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স না পাঠানো হয়।
জুলাই মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৫ কোটি টাকা, যা অন্য সময়ের চেয়ে কম। এর আগে বাংলাদেশে এক মাসে সবচেয়ে কম রেমিটেন্স এসেছে ১৯৯ কোটি ডলার। আর এই কারণেই রেমিট্যান্স আসা যদি কমে যায়, তাহলে বাংলাদেশ একটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উপায় হল প্রবাসীদের পাঠানো এই রেমিট্যান্স। এই রেমিট্যান্সের অর্থই বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। এখন রেমিট্যান্স শাটডাউনের নামে যে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হচ্ছে, তার একটি নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে যদি পড়ে তাহলে অর্থনৈতিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ এমনিতেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কম। তাছাড়া গত কিছুদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবং ঋণ পরিশোধের দায় মেটানোর কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় রেমিট্যান্স কমে গেলে বা রেমিট্যান্স প্রবাহ সংকুচিত হলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তাছাড়া এক সপ্তাহের সংকটের কারণে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প কারখানা গুলো একটি বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে।
ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে তথ্য প্রযুক্তি খাত সমস্যায় পড়েছে। এ সমস্ত সংকটগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য সময় প্রয়োজন কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি এমনিতেই একটি অস্বস্তিকর অবস্থায় ছিল। সে কারণে এখন এই নতুন ঝামেলা গুলো সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। আর এ সমস্ত সংকটে সরাসরি প্রভাব পড়বে দ্রব্যমূল্যের ওপর। দ্রব্যমূল্য যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না থাকে, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ যদি সঠিকভাবে সরবরাহ করা না যায় তাহলে সরকারের জন্য সামনে আরও বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।







































