
বিগত ০২/১০/২০২৪ খ্রি. দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তদন্তসাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। উক্ত প্রতিবেদন
বিশ্লেষণ :
১। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে প্রতিহত করতে অস্ত্র মো: তোফায়েল হায়দার স্বক্রিয়ভাবে রাজপথে অবস্থানের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়। যেখানে তিনি ৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে ও ৪ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে সকাল ১০:০০ ঘটিকা হতে দেবিদ্বার নিউমার্কেটে সরাসরি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষাবলম্বন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল । যা মানুলের মুঠোফোনে এখনো বিদ্যমান, তাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় তিনি একজন জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী। সেদিন সন্ত্রাসী হামলায় বাদশা রুবেল ও সাব্বির নিহত হয়। আবু বকর, জাকির হোসেনসহ আহত হন শতাধিক জুলাই যোদ্ধা। এমন জুলাই অভ্যুত্থানকে অস্বীকারকারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন দোসর কিভাবে উক্ত পদে পুনরায় আসীন হবে, যা রীতিমতো আর কলেজ কর্তৃপক্ষকে হতবাক করছে।
মো: তোফায়েল হায়দার একজন সাবেক ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এক স্থানে তার চাচাতো বোনের সাথে পারিবারিক অনুষ্ঠানে তোলা ছবি ও অন্যত্র ইডিট করা ছবি বলে তার কাছে চাদা দাবি করেছেন মর্মে দুই স্থানে ভিন্ন রকম মন্তব্য করেন কিন্তু তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল, যা আপামর সাধারণ মানুষের মুঠোফোনে এখনো বিদ্যমান। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র চাচাতো বোন দাবি করে এই ধরনের অনৈতিক স্থিরচিত্রের
অভিযোগ হতে পরিত্রাণ দিলেও আমাদের ছাত্রীদের অভিভাবকসহ সচেতন মহল বেশ উদ্বীগ্ন। তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে স্থলাভিষিক্ত হলে আমাদের শিক্ষার্থী হ্রাসের সম্ভাবনা প্রবল, বিশেষ করে আমাদের সচরাচর দুই-তৃতীয়াংশ মেয়ে শিক্ষার্থী থাকে, যারা এই কলেজে ভর্তি হতে শংকাবোধ করবে, ফলশ্রুতিতে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তাকে অধ্যক্ষ পদে আসীন করলে সামনের শিক্ষাবর্ষ গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া নিয়ে বেশ উদ্বীগ্ন।
৩। জনাব মো: তোফায়েল হায়দার গত ২৫/৩/2024 তারিখে কলেজের ক্যাশ হতে নগদ ৫০,০০০/= (পঞ্চাশ হাজার) টাকা মেসার্স বারেক হার্ডওয়্যার, দেবিদ্বার, কুমিল্লা এর বকেয়া টাকা পরিশোধ করার কথা বলে আত্নসাত করে হস্তগত রাখেন। কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে তদন্তকালে ৯/৯/২০২৪ তারিখে শুনানি হলে শুনানির সময় তিনি তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে ১০/৯/২০২৪ তারিখে সেটি বারেক হার্ডওয়্যারকে প্রদান করেন,যা সুস্পষ্টভাবে অর্থ আত্নসাতের শামিল।
8 মো: তোফায়েল হায়দার গত ১৪/৭/২০২৪ তারিখে কলেজের ক্যাশ হতে নগদ ১৬,০০০/= (ষোল হাজার) টাকা মায়ের দোয়া ইলেকট্রনিক্স, দেবিদ্বার, কুমিল্লা এর বকেয়া টাকা পরিশোধ করার কথা বলে আত্নসাত করে হস্তগত রাখেন কৃষি অফিসারের তদন্তকালে ৯/৯/2024 তারিখে সকালে শুনানি হলে শুনানির সময় তিনি তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগের বিষয়ে অবগত হয়ে ৯/৯/২০২৪ তারিখে বিকালবেলায় সেটি দোকানদারকে প্রদান করেন,যা সুস্পষ্টভাবে অর্থ আত্নসাতের শামিল।
৩ ও ৪ নং- এ এমন সুস্পষ্টভাবে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ৩০/৭/২০২৫ তারিখে আর্বিট্রেশন বোর্ডের রায়ের চিঠিতে (যার স্মারক নং- আইন/শিব/২৫/২০২৫/১৮২) সেটিকে সাময়িক অর্থ আত্মসাত বলে নির্বাহী কমিটির বহিষ্কারের প্রস্তাব গ্রহণ না করে ইহার পরিবর্তে তিরস্কারের দন্ড প্রদান করায় সেটি আর যথাযথ মনে হয়নি, কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন হীন রায়ে চরমভাবে বিস্মিত ও হতাশ। এমতবস্থায়, আর ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে বঞ্চিত হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হই ও এই চিঠির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৩৯ অর্ডার ১ রুলের বিধান মতে বিবাদীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী যার দেওয়ানী নং- ১৬৯/২০২৫। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা তোফায়েল হায়দারকে কেনো অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রচার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৪/৯/২০২৫ তারিখে নির্ধারণ করা হয়।
৫। মো: তোফায়েল হায়দার অধ্যক্ষ পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজের ক্যাশে বিগত ২০/২/২০২৪ তারিখে ২,৩১,২৩৩/= (দুই লক্ষ একত্রিশ হাজার দুইশত তেত্রিশ টাকা মাত্র) রেখে তালাবদ্ধ
করে চলে যান, সেই রাতে কলেজে চুরির ঘটনা ঘটে ও সম্পূর্ণ ক্যাশ টাকা চোর নিয়ে যায়, নিয়মানুযায়ী যার দায় তৎকালীন অধ্যক্ষ এড়িয়ে যেতে পারেন না বলে আর কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করি।
৬।মো: তোফায়েল হায়দার কলেজের রেজ্যুলেশন বহি, কলেজের ক্রীত ভূমির দলিলের মূল কপি, শিক্ষকদের সনদের মূল কপি, পাঠদানের অনুমোদনপত্রসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ব্যক্তিগতভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন, উনার দায়িত্বপালন কালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেসব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসমূহ নিজের হস্তক্ষেপে রাখেন, যা তিনি আর প্রদান করেননি।
এছাড়া, তিনি তার কর্মকালীন কলেজের হিসাব প্রদান না করায় কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির আহবায়ক উনাকে ধারাবাহিকভাবে ৩ বার চিঠি প্রদান করে কিন্তু কোনো জবাব না পেয়ে অডিট করে ও অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২,৯৭,৬৮,০৬৬/= (দুই কোটি সাতানব্বই লক্ষ আটষট্টি হাজার ছেষট্টি টাকা মাত্ৰ অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় এবং আত্নসাতের অভিযোগে কলেজ কর্তৃপক্ষ আইনের শরণাপন্ন হয় ও সি. আর. মামলা রজু করে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। যার মামলা নং- ৬৫৭/২০২৫। তাছাড়াও কলেজের জনতা ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে তৎকালীন সভাপতির মনে সন্দেহের সঞ্চার হওয়ায় তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেন চেক উত্তোলনের জন্য। এরই প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আবেদন করলে তারা কিছু চেক প্রদান করেন, যা দেখে তৎকালীন সভাপতি স্পষ্ট বুঝে ফেলেন যে উনার স্বাক্ষর বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ তোফায়েল হায়দার জাল করেছেন, পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হয় ও স্বাক্ষর জালের অভিযোগে তোফায়েল হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা রজু করে। যার মামলা নং- ৭৫০/২০২৫৷
ফলশ্রুতিতে, আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ মো: তোফায়েল হায়দার পুনরায় স্বপদে আসীন হলে ন্যায়-বিচার প্রাপ্তিতে ভীষণভাবে শঙ্কিত।
আর্বিট্রেশন বোর্ডের চিঠির বিরুদ্ধে রায়ের দায়ের করা মামলা নং- ১৬৯/২০২৫ এর কপি
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা সি.আর মামলা নং- ৬৫/২০২৫ এর কপি স্বাক্ষর জালের অভিযোগে দায়ের করা মামলা নং- ৭৫০/২০২৫ এর কপি





























