
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
অগ্নি কাণ্ডে চারটি টিনসেট কলোনির প্রায় শতাধিক রুম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৫ টার সময়
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি জরুন এলাকায় রুমেল পাঠানের বাসায়। এটি এখন একটি ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আজ সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়
অগ্নি কাণ্ডের স্থানটিতে চলছে শুনসান নিরবতা।
ভাড়াটিয়ারা মাথায় হাত দিয়ে বসে আসেন। কারো
মুখে কোন কথা নেই? তাদের পরনের কাপড় ছাড়া
কিছুই অবশিষ্ট নেই।
জানাযায় গত ৯ বছর আগে রুমেল পাঠানের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে টিনসেট কলোনি করে ভাড়া দেন বিজয়দা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) এক অগ্নি কাণ্ডে মুহুর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে যায়।
জায়গার মালিক রুমেল পাঠান জানান, চারটি টিনসেট কলোনির প্রায় শতাধিক রুম সবগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কোন রুমের জিনিসপত্র বের করা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনে সব আগুনে পুড়লো কিছুই করতে পারিনি। এতে প্রায় কোটি
টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন,প্রথমে একটি রুমের ভেতরে
বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সময় মতো ফায়ার সার্ভিস আসতে পারলে হয়তোবা এতটা ক্ষতি হতেনা।
স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ মোল্লা জানান,খবর শুনে
আমরা স্থানীয়রা ছুটে আসি। পরে দি ডেল্টা নীট
কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার ভেতর থেকে ও আশেপাশের বাসা থেকে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। তিনি বলেন,যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়।
শাহ আলম নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন,আমি অফিস থেকে জানতে পারি বাসায় আগুন লেগেছে। বাসায় এসে দেখি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই।
রহিমা বেগম নামে এক ভাড়াটিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে বেতন পাই। বেতনের সব টাকা রুমে ছিলো। ও আল্লাহ আমার সব শেষ হয়ে গেলো। রাতে দিনে ডিউটি করা টাকা মুহূর্তের
মধ্যে সব শেষ।
পান্না নামে রিপন নীট ওয়্যার লিঃ কারখানার এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন,আমি ডিউটিতে ছিলাম। খবর পেয়ে এসে দেখি আমার রুম কোনটা চেনা যাচ্ছেনা। পরনের পোশাক ছাড়া কিছু নেই। এছাড়াও এক কলা ব্যবসায়ীর নগদ ৫০ হাজার এবং চাউল ব্যবসায়ীর ৭০ হাজার টাকা পুড়ে যায়।
কোনাবাড়ি মর্ডান ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান। খবর পেয়ে কোনাবাড়ি মর্ডান সার্ভিস ও সারাবো মর্ডান
ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহুর্তের মধ্যে আশেপাশে থাকা কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও ৩০
লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
কিন্তু বাসার মালিক বলছেন প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ফায়ারসার্ভিসের ওই কর্মী।





























