
এবার দল গোছানোর দিকে নজর দিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকরা প্রথমেই পরিকল্পনা করছেন দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোয় শুদ্ধি অভিযান চালানোর। বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা জানাচ্ছেন, গত বছরের ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ‘অংশগ্রহণ ও তৎপরতাকে’ মূল্যায়ন করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন শীর্ষ নেতারা।
একই সঙ্গে গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও দলে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদনকারী ৫০ জন বিএনপি নেতার মধ্যে থেকে প্রায় ২৫ জনকে দলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দলের নীতিনিধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা চলছে। পুরো রমজান মাসজুড়ে দল পুনর্গঠনের কাজ চলবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, নির্বাচন বর্জন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘোষিত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে মূল দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার ব্যর্থতাই ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভার্চুয়ালি বৈঠক শেষে এমন মূল্যায়নে এসেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। শরিক দলগুলোর সঙ্গেও ধারাবাহিক বৈঠক করেছে বিএনপি। তারাও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আন্দোলন সফল না হওয়ার নানা কারণ তুলে ধরেছেন। এসব মূল্যায়ন ও মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ নেতারা নতুন করে যারা বিগত আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তাদের সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কাউন্সিল হয় না। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল। গঠনতান্ত্রিকভাবে তিন বছর পরপর এই সম্মেলন হওয়ার কথা। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা হয়েছে মাত্র একবার ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতা মারাও গেছেন। কেউ কেউ পদপদবি থেকে বাদ পড়েছেন। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ১৩০টির মতো পদ এখন শূন্য।
তবে দলের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জেলার নেতারা আন্দোলনে ছিলেন না। দলকে শক্তিশালী করতে ওই সব জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। ওই জেলাগুলোর যেসব নেতাকর্মী আন্দোলনে ছিলেন, তাদের ওই সব কমিটিতে পদায়ন করা হবে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যেসব জেলা কমিটির নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, সেই সব কমিটি বহাল থাকবে। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না এমন কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ না হলেও বিলুপ্ত করা হবে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে ৩১টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। বাকি ৫১টি রয়েছে আহ্বায়ক কমিটি। এর মধ্যে মাত্র ১০টিতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নানান সময়ে দলের বহ্ষ্কিৃত নেতাদের মধ্যে ৫০ জন আবেদন করেছিলেন দলে ফিরতে। তাদের মধ্যে যাছাইবাছাই করে প্রায় ২৫ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিন্তা করা হচ্ছে। যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে, আগে থেকেই তাদের পদ খালি না থাকলে, যোগ্যতা অনুযায়ী সেই সময় তাদের বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়ন করা হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘সরকারি বাধাবিপত্তির মধ্যে আমরা নিজেরা যত দূর সম্ভব দলকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছি। কাউন্সিল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া, এটা চলতেই থাকবে।’







































