
ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোড। ব্যস্ত এই এলাকাকে প্রতিদিন আরও ব্যস্ত করে রাখে এখানকার রেস্তোরাঁগুলো। জনসমাগম, গাড়ি-মোটরসাইকেলের আনাগোনায় ব্যস্ততার তুঙ্গে থাকে পুরো এলাকা।
রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের পর পালটে গেছে পুরো চিত্র। এতদিন অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করা বিভিন্ন সংস্থা হুট করেই সরব হয়েছে।
গত দুই দিনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ। অনুমোদনহীন রেস্তোরাঁ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙেও দিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
পুরো বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। রেস্তোরাঁগুলোতে আগ্নিঝুঁকি রয়েছে, এমন খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনমনে।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় ক্রেতা উপস্থিতি দেখা গেছে নামকাওয়াস্তে।
গাউসিয়া টুইন পিক ভবনের ছাদে থাকা রেস্তোরাঁ সোমবারই ভেঙে দিয়েছে রাজউক। সিলগালা করা হয়েছে আরও ১২ রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এই ভবনের সামনে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের তীব্র চাপ থাকে। তবে মঙ্গলবার সে চিত্র দেখা যায়নি। ভবনের সামনে মানুষের আনাগোনা একেবারেই কম।
পাশেই আরও কয়েকটি ভবনে রয়েছে রেস্তোরাঁ। সেখানেও ক্রেতা সমাগম একেবারেই কম। ক্যাফে ফায়ারগ্রিল, ৬৬.৯, দিল্লি দরবার, গ্লোরিয়া জিন্সের মতো জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় এ সময় ক্রেতা ছিল একেবারেই কম।
আবার আবাহনী মাঠের বিপরীতে পিৎজা হাটে ক্রেতা সমাগম কম দেখা গেছে। তবে একই ভবনের স্টার কাবারে ক্রেতা ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেইলি রোডে আগুনের ঘটনার পর থেকেই রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতা কমেছে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁর একজন কর্মচারী বলেন, ‘কাস্টমার একেবারেই কম। এমন কখনো হয় না। সবার মাঝেই মনে হচ্ছে একটা আতঙ্ক। সত্যি বলতে আমাদের স্টাফদের মধ্যেও আতঙ্ক আছে। অধিকাংশ বিল্ডিংয়ে সিঁড়ি একটা।
রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘আতঙ্কে কেউ বের হচ্ছে না। যে আতঙ্ক সরকার সৃষ্টি করেছে, তাতে কেউ বেরও হচ্ছে না।’
রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমাদের দাবি হচ্ছে, সমস্যা হইছে, সমাধান করুন। যাদের কপ্লাইয়েন্স নেই, তাদের কপ্লাইয়েন্সের জন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো। কিন্তু রেস্তোরাঁ বন্ধ করা, রেস্তোরাঁ ভাঙার উৎসবের উদ্দেশ্যটা কী? যারা দিনের পর দিন চোখের সামনে এগুলো হতে দিছে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিলো না? ব্যবস্থা নিলে সবার বিরুদ্ধে নিতে হবে, শুধু আমাদের না।’
এখানে মূল গাফেলতি কার? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে মূল গাফেলতি রাষ্ট্রযন্ত্রের।







































