
কুমিল্লা অঞ্চলে আলোচিত একাধিক মামলার আসামি পরান হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। পুলিশ ও মামলা-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তবে ওয়ারেন্ট জারির পরও তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরান হোসাইন বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর পরিবারও প্রকাশ্যে চলাচল করছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরান হোসাইনের নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একসময় ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কুমিল্লা উত্তর ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশের দাবি, সংগঠনের একাধিক সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হতো।
এছাড়াও নথি ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, দাউদকান্দি ও তিতাস এলাকায় নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যক্রমে পরান হোসাইনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ওই সময় তিতাস উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুরকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরান হোসাইন কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পরান হোসাইনকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা জোরদার করতে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রদানকারীর জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“মামলার নথি অনুযায়ী পরান হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”
অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের আলোচিত মামলায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা হলে জনআস্থা পুনরুদ্ধারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





























