
জাহাঙ্গীর সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলার জাতীয় মাছ ইলিশ। বাঙালির উৎসব, সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই মাছের স্বাদ এখন সাধারণ মানুষের জন্য যেন স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরাসহ দেশের বাজারে ইলিশের দাম এমনভাবে বেড়েছে যে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে তা ক্রয় করা প্রায় অসম্ভব।
সাতক্ষীরার বড় বাজার, কদমতলা বাজার, কাটিয়া টাউন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০-২৫০০ টাকা, ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৮০০-২০০০ টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ ১২০০-১৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা বড় বাজারে মাছ কিনতে আসা বকচরার তরিকুল ইসলাম বলেন, “আগে উৎসবে পরিবার নিয়ে একটি ইলিশ কিনতাম। এখন দাম শুনে ফিরে আসতে হয়। সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।”
শহরের রসুলপুর গ্রামের আসমা খাতুন বলেন, “জাতীয় মাছ ইলিশের স্বাদ এখন সাধারণ মানুষের জন্য দূরের কথা। এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমার মনে হয়, বছরে অন্তত একবার সবাই এই মাছ খেতে পারা উচিত। কিন্তু দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষ শুধু শুনেই বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন। ইলিশ এখন বড়লোকদের জন্য, আর সাধারণ মানুষ চোখে দেখা ছাড়া কিনে খাওয়ারও সামর্থ রাখে না।”
মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই দাম বেশি। সাতক্ষীরা বড় বাজারের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, “প্রতি কেজি ইলিশ কিনতে হচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকায়। কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। তাই দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।”
জেলেরা অভিযোগ করছেন, নদীতে ইলিশ কম উঠছে। জাল ফেলেও অনেক সময় খালি ফিরতে হচ্ছে। তেলের দাম, নৌকার খরচ ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে মাছ বিক্রি করছেন।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ ধরা, নদীর দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
আগামী দুর্গাপূজা ও ঈদে ইলিশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে দাম চড়া থাকায় সাধারণ মানুষ এবার সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে সাধারণ মানুষের দাবি, ইলিশের দাম যেন তাদের হাতের নাগালের মধ্যে থাকে এবং তারা উৎসব কিংবা বিশেষ দিনে স্বাভাবিকভাবে কিনে খেতে পারে। তারা চাই, সরকার এই বিষয়ে বিশেষ নজর দিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।





























