
বাঁশখালীর সরকারি পুকুরের মাছের ভাগ নিয়েছেন ইউএনও, দাবি স্থানীয়দেরবাঁশখালী প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সরকারি পুকুরের মাছ এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাছ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে ইউএনও রুহুল আমিন দাবি করেছেন, পুকুরের পানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুসল্লিদের অজুর সমস্যা বিবেচনায় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে মাছ আহরণ করা হয়। জাল টানার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের বিষয়টিও মাছ বণ্টনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে তিনি জানান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের ওই পুকুরে প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা বড় হওয়ার পর সম্প্রতি পুকুরে জাল টেনে মাছ আহরণ করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, আহরণ করা মাছ এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও মাছ বণ্টনের প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে পোনা অবমুক্ত করে বড় করা মাছ আহরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। মাছের মোট পরিমাণ কত ছিল, কীভাবে এবং কার মধ্যে কতটুকু মাছ বিতরণ করা হয়েছে—সে বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, পুকুরের পানি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। পুকুরের পাশে একটি মসজিদ থাকায় মুসল্লিদের অজু করতেও সমস্যা হচ্ছিল বলে তিনি জানান।তিনি বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে পুকুরে জাল টেনে মাছ আহরণ করা হয় এবং পানিতে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা বিষক্রিয়া দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।ইউএনও আরও বলেন, মাছ আহরণের জন্য জাল নিয়ে আসা শ্রমিকদের প্রায় ৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাছ বিতরণ করা হয়েছে।নিজে মাছ নেওয়ার বিষয়ে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, মাছ ভাগ করার সময় তিনিও একটি অংশ পেয়েছেন। পুকুরটি প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ায় সেখানে সংশ্লিষ্টদের অধিকার রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের প্রয়োজন হলে মাছ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ বা অন্য কোনো স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেত কি না। একই সঙ্গে মাছের প্রকৃত পরিমাণ এবং বণ্টনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হলেও বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। সরকারি পুকুরের মাছ এভাবে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। এটি ঠিক হয়নি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত পুকুরের মাছ আহরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা দ্রুত এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের সুযোগ ছিল বলেও তারা মনে করেন।তাদের দাবি, সরকারি পুকুরে এডিপির অর্থে অবমুক্ত করা মাছ আহরণ ও বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে মাছের মোট পরিমাণ, বণ্টনের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হোক।এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



























