
রাজধানী ঢাকার নিত্য দিনের সমস্য হলো, দুঃসহ যানজট। কোনো সময় নির্ধারণ করে নয়, যে কোনো সময় যে কোনো এলাকার সড়কে হচ্ছে যানজট। কখনো যানজটের তীব্রতা এত বেশি হয় যে যা ছড়িয়ে যায় ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায়। মঙ্গলবার সকালেও এমনটা ঘটেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটার কারণে ভেতরে ঢুকতে পারছে না গাড়ি। ফলে ওই সড়কের যানজটের পরিধি বাড়তে বাড়তে আশপাশের সব দিকে ছড়িয়েছে। যে কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে যারা বিমানবন্দরে যাবেন তাদের হাতে সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।
সকাল আটটার দিকে ডিএমপির গুলশান বিভাগের ট্রাফিকের পক্ষ জানানো হয়, এয়ারপোর্টের দিকে দুটো এক্সিডেন্ট হওয়ায় ও ডমেস্টিকে গাড়ি না ঢোকার কারণে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে পেছন দিকে অর্থাৎ এয়ারপোর্টের টেইল আর্মি স্টেডিয়ামসহ কাকলীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রগতি সরণি রোডে কোকাকোলা পর্যন্ত চলে এসেছে যানজট। আবার ইসিবি থেকে রেডিসন বা উত্তরার দিকে কোনো গাড়ি যেতে পারছে না। এ মুহূর্তে এয়ারপোর্টের উদ্দেশে বের হলে হাতে সময় নিয়ে বের হোন অথবা বিকল্প রুটের কথা চিন্তা করতে পারেন।
এদিকে যানজটের ভোগান্তি মাথায় নিয়ে বিশেষ করে কর্মস্থলে রওনা হওয়া মানুষ ভীষণ বিপদে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের বাসে, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বসে থাকতে হচ্ছে।
অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কের চিত্র তুলে ধরে পোস্ট করছেন। কেউ আবার সড়কের হালচাল কেমন তা জানানোর চেষ্টা করছেন।
সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে সড়কের চিত্র তুলে ধরে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, উত্তরামুখী যানবাহন ইসিবি চত্ত্বরে ডেডলক অবস্থায়। আপনারা যারা উত্তরার দিকে যাবেন সময় নিয়ে বের হবেন এবং ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন।
রিয়াদ মোর্শেদ নামে একজন লিখেছেন, এয়ারপোর্টের জ্যাম কালশী চলে এসেছে। একটু পর হয়তো আমার মিরপুর ডিওএইচএসের বাসার সামনে চলে আসবে!
এদিকে বাড্ডা-কুড়িলের সড়কেও যানজটের তথ্য দিয়েছেন নুরুল আমিন নামে একজন। তিনি লিখেছেন, নতুন বাজার-যমুনা ফিউচার পার্ক হয়ে যারা উত্তরা-এয়ারপোর্টের দিকে যাবেন তারা বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করুন।
আরেকজন লিখেছেন, ইসিবি থেকে খিলক্ষেত-উত্তরা রুটে ভয়াবহ জ্যাম। ওভারব্রিজ থেকেই জ্যাম হয়ে আছে। যারা ওই রুটে যাবেন সময় নিয়ে বের হন।
এদিকে এয়ারপোর্টের দিকের সড়কের যানজট পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তারেক বিন জসীম।
সকালে ছোট ভাইকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে রাস্তার পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোডে জ্যামের মূল কারণ এয়ারপোর্টে ঢোকার জায়গায় চরম অব্যবস্থাপনা এবং একইসাথে সম্ভবত কাওলা, খিলক্ষেতে গরুর হাটের কার্যকারিতা শুরু হওয়া। ভোর ৪টায় এয়ারপোর্টে যাওয়া হয় ছোট ভাইকে বিদায় দিতে। তখন দেখতে পেলাম দোতলার টার্মিনালে উঠতে অনেক পথ ঘুরে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে তারপর উঠতে হয়। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে কারা, আল্লাহই ভালো জানেন!
তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে এতো দীর্ঘ সিরিয়াল জীবনেও চোখে পড়েনি। সেই জ্যাম মেইনরোডে চলে এসেছে এবং বনানী, বসুন্ধরা, ৩০০ ফিট সবদিক থেকে উত্তরায় ঢোকার রাস্তা এই মুহূর্তে ব্লকড। এয়ারপোর্ট পার হলে কিন্তু আর জ্যাম নেই।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই আধুনিক যুগে এসেও সারা ঢাকায় ম্যানুয়াল ট্রাফিক সিস্টেমে হাতের ইশারায় কাজ চলছে। নব্বইয়ের দশকেও ঢাকার বহু রাস্তায় সিগনাল লাইট ছিল, এখন এসব ভুলে, উল্টো রথে চলছে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা।







































