
আজিজুল ইসলাম:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে ভিজিডি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিসিয়ারি) কার্ডের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, দু’র্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকাশিত তালিকায় হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে বিত্তবান, পাকা বাড়ির মালিক, চাকরিজীবী ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ বিধবা, পঙ্গু, অসহায় ও প্রকৃত দুস্থ নারীরা বাদ পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আব্দুল বারেকের সরাসরি স্বজনসহ একাধিক বিত্তবান ভিজিডি কার্ডের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার ভাইয়ের স্ত্রী ইসরাত জাহান মিষ্টি, প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আসমা আক্তার, প্রবাসী নারী শিউলি আক্তার, প্রবাসীর স্ত্রী কামরুন নাহার, চাকুরিজীবীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, ব্যবসায়ীর স্ত্রী শরিফা, ধনী পরিবারভুক্ত জরিনা খাতুন, বিলকিছ আক্তার, উম্মে কুলছুম এবং ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হয়েও তালিকাভুক্ত সাজিয়া আফরিন। এদের প্রত্যেকেরই পাকা দালান, জমি-জমা ও পর্যাপ্ত আয়-রোজগারের উৎস রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাদিয়া খাতুন বলেন,
“আমরা গরীব মানুষ ভিজিডি কার্ডের আশায় আবেদন করেছি, আমাদের নাম আসেনি। অথচ যারা টাকা দিয়েছে তারা বড়লোক হলেও কার্ড পাচ্ছে। তাহলে গরীব মানুষের অধিকার কোথায়?”
ভিজিডি কার্ডের বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, স্বামীহারা দুস্থ নারী, দিনমজুর, আয়ের উৎসবিহীন পরিবার বা ১৫ শতকের কম জমির মালিকরাই অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু সরকারি সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে তালিকা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ইউপি সদস্য আব্দুল বারেকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন,
“অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





























