
গোসাইরহাট,শরীয়তপুর, প্রতিনিধি।।
রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসি বলেছেন, রাস্তা না থাকার কারণে ছোট ছোট শিশুরা স্কুলে যেতে যায় না। একটু এদিক সেদিক হলেই পড়ে যায় পানিতে। রাস্তার কারণে ফসলের ন্যায্য দাম পাই না, বিক্রি করতে পারি না।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে মানববন্ধন করে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার গোসাইরহাট ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এমন দাবি করেছেন।
এলাকাবাসী ও মানববন্ধন সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা গোসাইরহাট ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম, আনুয়া কাঠি ও দাতরা গ্রাম। এসব গ্রামে প্রায় ১০ হাজার লোকজনের বসবাস। হানিফা সরদারের বাড়ির মোড় থেকে আনুয়া কাঠি গ্রামের সুমন বেপারীর বাড়ির ব্রিজ ঘাটা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা প্রতি বছর নদী ভাঙনে ভাঙতে ভাঙতে এখন রাস্তাটি নিশ্চিহ্ন প্রায়। রাস্তাটির উপকারভোগী লোকজন রাস্তাটি ব্যবহার করে কোনো কাজ করতে পারেন না ভাঙনের কারণে। গ্রামের প্যাগনেন্ট মাসহ বৃদ্ধ বা কোনো শিশুকে জরুরি মুহুর্তে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ছোট কোনো যানবাহনও চলাচল করতে পারে না রাস্তাটি দিয়ে। যার ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। শিশুদেরকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যেতে হয় আবার নিয়ে আসতে হয়। মাঠে বিভিন্ন ফসল ও সাংসারিক কাজ কর্মের কারণে কৃষক পরিবারের এসব শিশুদের প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। রাস্তা ভাঙনের কারণে শিশুরাও ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না।
এছাড়াও আদর্শ গ্রাম, রাস্তা ভাঙনের কারণে আনুয়া কাঠি ও দাতরা গ্রামের ফসলি মাঠে ফলা ধান, মরিচ, পাট, সয়াবিন, গম, কালিজিরা, ধনিয়া, সরিষা, ভুট্টা, খেসারি, মসুরি কোনো কিছুরই ন্যায্য মূল্য পায় না কৃষক। ফলে প্রতি বছর লোকসান গুণতে হয় কৃষকদের।
একটি মাত্র রাস্তার কারণে এতসব দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে মানববন্ধন আয়োজন করে এসব কথা জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
তাছলিমা বেগম বলেন, আমি যখন অসুস্থ ছিলাম তখন আমাকে এই রাস্তাটির জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেনি। এই জায়গাটার এমন অবস্থা একজন অসুস্থ বা গর্ভবতী মহিলাকে চারজনে যে ধরাধরি করে নিবে তাও সম্ভব হয় না। এই রাস্তাটা আমাদের প্রয়োজন।
মানববন্ধনে প্রতিনিয়ত রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারী এজাত আল মাহমুদ বলেন, আমরা অনেক সময় এশারের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এই রাস্তা থেকে পড়ে যাই। আমাদের ছেলেমেয়েরা রাস্তাটির জন্য স্কুল, মাদ্রাসায় যেতে চায়না। আমাদের রোপন করা ফসল আমরা ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারি না কারণ এই রাস্তাটি দিয়ে কোন গাড়ি চলার উপযোগী না। আমরা চাই সরকার যেন এই রাস্তাটি ঠিক করে দেয়।
গ্রামবাসীদের ভাঙা রাস্তার কারণে এমন দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসীদের মানববন্ধন আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন গোসাইরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, রাস্তাটির কারণে গ্রামের শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পায় না। প্যাগনেন্ট মায়েদেরকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। আমি কথা দিচ্ছি বিএনপি সরকার গঠন করলে রাস্তাটি সংস্কারে উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করব, যেন রাস্তাটি সংস্কার হয়।
বিষয়টি নিয়ে গোসাইরহাট উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ওবাইদুল বাসার বলেন, আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।





























