
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘুষ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এসিল্যান্ডের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এক অন্ধ ও প্যারালাইজড ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দেয়নি তারালি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম। এমনি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের কাশীশ্বরপুর গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের ছেলে অন্ধ ও প্যারালাইজড রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস (মন্ডল) রতনপুর বাজারে সরকারি খাস জমিতে পেরি/ডিসিআরভুক্ত একটি দোকানের মালিকানা নিতে গেলে তৎকালীন রতনপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম তার কাছ থেকে তাকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।পরবর্তীতে দোকান সংস্কারের নাম করে আরও ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয় করেন ওই ভূমি কর্মকর্তা। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডিসিআর বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেন রেজাউল ইসলাম।
ভুক্তভোগী রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, অসুস্থ হয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিন মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ ও প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। এ সময় তার স্ত্রী রত্নাশীল ডিসিআরের বিষয় খোঁজ নিতে গেলে তহশিলদার রেজাউল ইসলাম তার স্ত্রীর কাছে আবারও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এছাড়াও তার ৩৪ শতক জমির নামজারি ও খাজনা দাখিলা দিতে গেলে নায়েব রেজাউল ইসলাম ১২ হাজার টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাগজপত্র ছিঁড়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেন ওই ভূমি কর্মকর্তা। পরে ওই অফিসের পিয়নের মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা দিলে মাত্র ৪ হাজার ৪৩ টাকার দাখিলা রশিদ তাদেরকে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী দম্পতি সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডলের কাছে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খান। তিনি নায়েব রেজাউল ইসলামের ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।ওই টাকা ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৭ ডিসেম্বর উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে নাজির দেবব্রত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীদের টাকা না দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এবিষয়ে তহশিলদার রেজাউল ইসলামের বর্তমান কর্মস্থল তারালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে তিনি প্রথমে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি টাকা ফেরত দেবো বলেছি, এটা সাংবাদিকদের জানানোর কি দরকার বলে প্রশ্ন করেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির দেবব্রত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খান ঘুষ ফেরতের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নায়েব রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।





























