
মো. আল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের গ্রামে গঞ্জে বেড়ে গেছে চুরির উপদ্রব। রাত হলেই ভয়ে থাকেন কৃষকসহ গ্রামের মানুষজন। কারো গৃহাস্থলির গরু হচ্ছে চুরি, আবার কারো বসতঘরে সিঁধ কেটে চুরি হচ্ছে রাতের আধারে। রাত নেমে আসলেই চুরির আতঙ্কে থাকেন মানুষজন। বসত ঘরের দরজা বাহির থেকে বেঁধে রেখে গরুর গোয়ালঘর থেকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে গরু ছাগলসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। দিনদিন চুরির আতঙ্ক বেড়েই চলছে গ্রামে গঞ্জে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র প্রধান সড়কেই দাড় করিয়ে রাখে পিকআপ ভ্যাণ। তাদের চুরিকরা গরু ছাগলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সহজেই পিকআপে করে দূর দূরান্তে সড়িয়ে ফেলতে পারে। আর এতে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।
নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ জাল্লাবাদ গ্রামের দরিদ্র কৃষক ফরিদ মিয়া ওরফে ফটিক মিয়া। একমাত্র উপার্জনের সম্বল চারটি গরু। দুধ বিক্রী করে করতেন জীবিকা নির্বাহ। গরুগুলি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন নিঃস্ব হয়ে পথে পথে ঘুরছে। বয়স্ক স্ত্রীসহ খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছে এই ফটিক মিয়া। নিকলী থানায় অভিযোগ করার পরেও প্রতিকার না পেয়ে কান্না করেই দিন পার করছে বৃদ্ধ ফটিক মিয়া ও তার স্ত্রী।
গত বুধবার দিবাগত রাতে ফটিক মিয়ার গোয়াল ঘর থেকে দুটি দেশি জাতের গাভী ও দুটি বড় বাছুর গরুসহ মোট চারটি গরু চুরি হয়ে যায়। গরুগুলোর আনুমানিক দাম হবে তিন লক্ষ টাকার উপরে।
এভাবেই অসহায় মানুষগুলো শেষ সম্বল হারিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
সাধারণ মানুষজন মনে করছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর রাতের বেলায় টহল জোরদারের অভাবে বেপরোয়া হয়ে পড়ছে চোরচক্র। মূল সড়কগুলোতে কড়া পুলিশি টহল থাকলে হয়তোবা চোরচক্রগুলো সহজেই ধরা পড়তো। দক্ষিণ জাল্লাবাদ গ্রামের মতো অন্যান্য গ্রামের মানুষজনও চোরের ভয়ে আতঙ্কে রাত পার করছে। গ্রামে গঞ্জের মূল সড়কগুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধির আবেদন জানান সাধারণ মানুষজন।





























