
মোঃ সম্রাট আলী, দৌলতপুর
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুরে গ্রামে অবস্থিত দরবার-এ রেছালাতে মোজাদ্দেদীয়া চরদিয়া পাক দরবার শরীফ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা ষড়যন্ত্র।
চরদিয়া পাক দরবার শরীফ নামে ওই দরবারকে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে স্বার্থান্বেষী কর্মকান্ড করে আসছে। দরবার শরীফের ক্ষয়ক্ষতি করাসহ হুমকি-ধামকি এবং নানাবিধ অপপ্রচার প্রতিবাদে কল্যাণপুর দরবার শরীফের পক্ষে মুরিদ ও ভক্তরা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
রবিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণপুর দরবার শরীফ পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও মুরিদ মওলানা নুরুল হক, দরবার শরীফের মুরিদ শহিদুল ইসলাম, হোসেন আলী প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে মুরিদরা বলেন, গত ৫ আগস্টের আগেও কল্যাণপুর দরবার শরীফ উচ্ছেদ করতে তৎকালীন সাংসদ ও তার ভাই, আত্মীয়-স্বজনরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করেছে। বর্তমানে আবার নতুন উন্মাদনায় মেতে উঠেছে ওই চক্রের লোকজন। পবিত্র এ দরবার শরীফকে জনসমক্ষে হেয় করতে তারা বিভিন্নভাবে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন কুষ্টিয়ার একটি পত্রিকায় দৌলতপুরের ভন্ড পীরের আস্তানা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র শিরোনামে একটি মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে। উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মুরিদরা।
তারা আরো বলেন, কল্যাণপুর দরবার শরীফ পরিপূর্ণ সরা-শরীয়তের উপর আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা দ্বারা সু-প্রতিষ্ঠিত। দরবার শরীফটি হুজুর পাক নকশা বন্দী মোজাদ্দেদিয়া তরিকতে সত্যপীর মোজাদ্দেদ আল ফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি’র সিলসিলায় শাহজাদপুর হুজুর কেবলা জানের গোলামী করে নিজেকে পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এ অঞ্চলের কিছু ওয়াহাবি বা বাতিল মতাদর্শের মোল্লা মুন্সির কারণে বাংলার ওলি আউলিয়া সর্বদাই মিথ্যা ফতোয়ার শিকার হচ্ছেন। ঠিক তেমনি কল্যাণপুর হুজুর তাদের রোষানল থেকে বাদ যাননি। অথচ বিগত সরকারের আমলে সন্ত্রাসী নেতার চক্রান্তে সাবেক সাংসদ রেজাউল হক ও তার ভাই টোকেন চৌধুরী দ্বারা উক্ত দরবার শরীফ ভাঙচুর লুটপাট অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছিল। গত ৩ থেকে ৪ বছর হুজুর কেবলাকে দরবার শরীফে আসতে দেয়া হয় নাই। উক্ত দরবার শরীফের সম্পত্তি বাংলাদেশ ওয়াকফ স্টেট মিস সি নম্বর ২১ ৯৯১-২০১৬ এর ওয়াকফ তালিকাভুক্ত। দরবারটি পরিচালনা করতে একটি কমিটি রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই দরবার শরীফে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম দোসর সদর আসনের রাতের ভোটের সাবেক এমপি হানিফ ও দৌলতপুরের রেজাউল হক এবং তার ভাই টোকেন চৌধুরীর নেতৃত্বে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
মুরিদরা বলেন, হুজুর কেবলার জনপ্রিয়তা এবং দিনদিন তার ভক্ত মুরিদানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা ঈর্ষান্বিত হয়েছে। আর এ কারণেই দরবারের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে তারা উঠে পড়ে লেগেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার ও নানাবিধ মিথ্যাচার করছে। এই সকল ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।





























