
কোরবানি গরুর ফেলে দেওয়া নাড়ি-ভুঁড়ি, বিশেষ অঙ্গ এবং কান রপ্তানি করে বছরে আয় হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। ফেলে দেওয়া এসব অঙ্গ যাচ্ছে মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। সরকারের নীতি সহায়তার অভাব ও সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতায় এগোতে পারছে না সম্ভাবনাময় এ খাতটি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, এ খাতকে এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা দূর করা জরুরি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিজের কারখানায় থরে থরে সাজানো কোরবানি গরুর পিজল বা বিশেষ অঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল খান। ড্রায়ার মেশিনে ৩-৪ দিন শুকিয়ে সেগুলো রপ্তানি উপযোগী করছেন তিনি। চাকরির পেছনে না ছুটে, ২০১৯ সালে শুরু করেন অপ্রচলিত এ পণ্যের রপ্তানি। বর্তমানে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন ১৮ জনের।
পিজল ও ওমাসম রপ্তানিকারক মোহাম্মদ সোহেল খান বলেন, ‘এখানে যে পোডাক্টটা আমরা রপ্তানি করতেছি, সেটা বাংলাদেশের কেউ খায় না। সরকার যদি এখান থেকে আমাকে একটু হেল্প করে যে ১০ দিনের মধ্যে না, ৭দিনের মধ্যে হেলথ রিপোর্টটা তৈরি করে দিতে পারে, তাহলে এখানে আমার বায়ারদের কাছে কমিটমেন্টটা ঠিক থাকে।’
অপ্রচলিত হলেও এই ব্যবসা দারুণ সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, কোরবানি পশুর ফেলে দেওয়া এই বিশেষ অঙ্গ, পেনিস বা পিজল রপ্তানি হয় আমেরিকা এবং কানাডায়। যা পোষা কুকুরের জনপ্রিয় খাবার। যার টন বর্তমানে বিক্রি হয় ২০-২২ হাজার ডলার। এর বাইরে ফেলে দেওয়া গরুর ভুঁড়ি, কান, রপ্তানি করে বছরে ৫০০-৮০০ কোটি টাকার রপ্তানি আয় সম্ভব বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
এ ছাড়া দেশ থেকে গরুর নাড়িভুঁড়ি চলে যায় ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে। যা সেখানকার বেশ জনপ্রিয় খাবার। চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর হাজারীবাগেও গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি আড়ত। সেখান থেকে বিশেষ অঙ্গ সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয় রপ্তানিকারকদের কাছে। পিজল ৬০-৭০ টাকা আর ভুঁড়ি প্রতি পিস বিক্রি হয় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এ ছাড়া পশুর বিভিন্ন হাড়, শিং, লেজ, কান দিয়ে তৈরি হয় হস্ত শিল্প, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল।
এসব অঙ্গ যাচ্ছে মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনএসব অঙ্গ যাচ্ছে মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘লবণ দেওয়ার পরে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০টাকা থাকত। এখন সেটা সেখান থেকে নেমে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে।’
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভুঁড়ি আমরা ২০০ টন ছাড়া বিক্রি করি না। যারা হকার আছেন তাদের কাছ থেকে কিনে স্টক করে আমি মাস শেষে ৪ থেকে ৫ টন মাল বিক্রি করি।’
সরকারের সহযোগিতা চেয়ে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের সাহায্য করে তাহলে এই ব্যবসায় চামড়া চাইতে ভালো একটা পর্যায়ে চলে যাবে।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এগুলো সংগ্রহ করে তারপর প্রিজার্ভ করা, ট্রান্সপোর্ট এই জায়গাগুলোতে যদি আমরা সহযোগিতা করলে, ব্যবসায়ীদের অপারেশনাল কষ্ট অনেক কমে আসবে।’
যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করে, বিশেষ অঙ্গ সংগ্রহে স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে কেন্দ্র স্থাপন করার তাগিদ উদ্যোক্তাদের। এতে, এ খাত অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করেন তারা।







































