
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত হয়েছেন ২ জন। এ ঘটনায় চারজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিনগর ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আইয়ুব আলী ভেন্ডার, একরাম হোসেন হোসেন ও বাপ্পীর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন শুক্রবার দিবাগত রাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুমি অফিসের সামনে মনির ভেরাইটিজ স্টোরে হামলা করে।
এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দোকানটি কুপিয়ে তছনছ ও মালামাল লুট করে পিকআপযোগে নিয়ে যায়। হামলার সময় দোকানে ঘুমিয়ে থাকা মনির হোসেন বাঁধা দিলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ককটেল ফাটিয়ে ভীতি ছড়িয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। হামলার ঘটনায় মোঃ খায়ের নামে আরও একজন আহত হয়েছে।
ব্যবসায়ী মনির হোসেনের ভাই মোঃ আলী জানান, মনির হোসেন জায়গার মালিক মিলন আক্তার থেকে দোকান ঘরটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। গত রাতে আ’লীগ নেতা আনোয়ারের নেতৃত্বে দোকান ঘরটি ভাংচুর ও লুটপাট করে। তাদের হামলায় আহত আমার ভাই বর্তমানে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জায়গায় মালিকের ছেলে তাজুল ইসলাম বলেন, জায়গাটি আমার আম্মার নামে খারিজ করা। বিগত আওয়ামী শাসনামলে তাদের দলীয় প্রভাবে আমাদেরকে জায়গায় আসতে দেয়নি। জুলাই বিপ্লবের পর তারা পালিয়ে গেলে আমরা আমাদের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করি। কয়েকদিন আগে তারা আবার ফিরে এসে শুক্রবার রাতে দোকানের বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রথম অভিযুক্ত আইয়ুব আলী ভেন্ডারের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, তাদের সাথে আমাদের ঝামেলা জায়গা জমির বিষয় নিয়ে। কিন্তু ভাঙচুর-লুটপাটের বিষয়ে কিছু জানিনা। আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ভাই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জরিত আছে এ বিষয়ে আমার জানা নাই।
দ্বিতীয় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতা আনোয়ার হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে অনেক চেষ্টার পর ও যোগাযোগ করা যায়নি। কিন্তু আনোয়ারের বউ উম্মে সালমার সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, রাজনীতি করেছে অসুবিধা কি? আর আমরা কোন হামলা ভাংচুর এর সাথে জড়িত ছিলামনা।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মোর্শেদ আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের শীগ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।





























