
মোতালেব হোসেন, কুমিল্লা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন থানার আওতায় সক্রিয় ৩৪৩ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকা বর্তমানে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রয়েছে।গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।পুলিশ সূত্র জানায়, প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী জেলার ১১টি আসনের অন্তর্ভুক্ত ১৮টি থানায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকায় ১৮ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ১৫ জন, চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় ৩১ জন, নাঙ্গলকোটে ৮ জন, লাকসামে ১৩ জন, মনোহরগঞ্জে ৩০ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৯ জন, বরুড়ায় ২৬ জন, চান্দিনায় ২২ জন, দাউদকান্দিতে ২০ জন, তিতাসে ১১ জন, হোমনায় ১৬ জন, মেঘনায় ৯ জন, মুরাদনগরে ২২ জন, দেবিদ্বারে ৯ জন এবং বাঙ্গরা বাজার থানায় ৯ জন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের অপরাধে জড়িত আরও ৭৯ জনের নাম তালিকায় রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ জন। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ভোটের দিন কিংবা তার আগে-পরে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থানাভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই পুলিশ ও যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সন্ত্রাসীদের যাতায়াতও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।পুলিশ সুপার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।





























