
সুজানগর(পাবনা)
আমাদের বাংলায় বা দেশে বাঙ্গালী পুরুষের প্রধান পরিধানকৃত পোশাক লুঙ্গি, যে কবে একটি জনপ্রিয় জায়গা করে নিয়েছে সেটা নিদিষ্ট সময় সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না।
তবে ভারত উপমহাদের বিভিন্ন সময় ও শাসন আমল থেকে যুগে যুগে এই জনপদে বসবাস উপযোগী মনে করে অনেক জাতি ও গোষ্ঠী এই বাংলায় এসেছেন।তখন থেকে এই বাংলায় প্রথম হিন্দু জাতি সেলাই বিহীন ধুতি পরিধান করতেন এবং পূর্ব বাংলার মুসলমানও সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করতেন। যখন হিন্দু মুসলিম দুই দেশের মধ্যে একটি ভাগাভাগি হয়ে যায়,তখন থেকেই পূর্ব বাংলার মুসলিম পুরুষ ধূতি বাদ দিয়ে লুঙ্গি পরিধানে অভ্যস্ত হয় ।
আমাদের এই জনপদ গুলোতে যখন তাঁত শিল্পের আবির্ভাব ঘটে যখন জামদানী ও মুসলিমের উৎপাদন শুরু হয়। ঠিক তখন থেকেই মুসলিন ধুতির প্রচলন শুরু হয়। তারপরে বাঙালি মুসলিম বিভিন্ন ডিজাইন ও সেলাই করা লুঙ্গির পড়তে পড়তে আরামের মধ্যে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
বাংলাদেশ লুঙ্গি মূলত দুইভাবেই তৈরি হয় এক হ্যান্ডলুম(হাতে) দুই পাওয়ারলুম(মেশিনে)।লুঙ্গি মূলত বাংলাদেশের এক শ্রেণির পুরুষ ঘুমানো ও বাসায় ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করে এবং এক শ্রেণির পুরুষ নিজের দেশের ঐতিহ্যকে ভালোবেসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিধান করে এবং এক শ্রেণীর কৃষক,শ্রমিক, রিকশা চালক এবং আরও নানান পেশার পুরুষশ্রেণি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে।
১৯৭১ সাল থেকে আজ আমরা স্বাধীন স্বার্বভৌমত্ব বাংলাদেশে বসবাস করছি।আজ স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত স্বাধীনতার ৫২ বছর। তার আগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পূর্ব বাংলার অধিনে ছিলাম ২৩ বছর। তারমানে সহজ সমীকরণে হিসাব করলে আমাদের বাংলাদেশের ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষ অনেক বছর আগে থেকেই মুসলিম ও হিন্দু বাঙালি পুরুষ আরামদায়ক পোশাক লুঙ্গিকে আপন করে নিয়েছে।বাংলাদেশের পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ,চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া জেলার গ্রামীন প্রান্তিক অঞ্চলে সেই সময় থেকেই তাঁতের লুঙ্গি তৈরি হতো এবং এছাড়াও বাংলাদেশের অনেক প্রান্তিক অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটে আছে লুঙ্গি তৈরির তাঁত শিল্প।যদিও এই শিল্পের সূচনা হয়েছিল হ্যান্ডলুম মেশিনের লুঙ্গির বুনন প্রক্রিয়া দিয়ে।বর্তমান এই সকল জেলা ও উপজেলাতে দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষ কারিগরদের নিয়ে লুঙ্গি তৈরি হয়ে আসছে।প্রতিটি জেলার ভৌগোলিক অঞ্চল,আবহাওয়া,পানি এবং মাটি
এবং উৎপাদন,বুননকৌশল,উপাদান এবং ডিজাইন এর কারনে দেশের এই বিশেষ অঞ্চল গুলোর আলাদা আলাদা বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে।
একটি ধারনাকৃত সমীকরণে বছরে পাঁচ কোটি পুরুষের জন্য বছরে দুটি করে লুঙ্গি বুনন হলে ১০ কোটি লুঙ্গি বুনন করা হয় শুধু অভ্যন্তরিন বাজারে।তারপরও বাংলাদেশের বাহিরে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য দেশ গুলোতে রপ্তানির লুঙ্গির একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে।তাই এই লুঙ্গিকে আমাদের দেশীয় সম্পদ হিসাবে সুরক্ষা করতে ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি পাওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।





























