
স্টাফ রিপোর্টার নেত্রকোনা :মোঃ মানিক মিয়া
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি ফিসারিতে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত এই নাশকতাকে স্থানীয়রা ‘জীবিকা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ফিসারি মালিক মোহনগঞ্জ উপজেলার বানিহারী গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
ফিসারি মালিক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষির পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ঘটনার আগের রাতে তিনি তার ফিসারি থেকে মাছ ধরে মোহনগঞ্জ বাজারের মকসুদ মিয়ার আড়তে বিক্রি করেন। রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে ফিসারির সবকিছু স্বাভাবিক দেখে তিনি বাড়িতে ফিরে যান।
পরদিন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ফিসারির এক কর্মচারী ফোন করে তাকে জানান, মাছগুলো একে একে মরে পানিতে ভেসে উঠছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ফিসারির অধিকাংশ মাছ মৃত অবস্থায় পানিতে ভেসে রয়েছে। এতে তার আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাতের আঁধারের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ফিসারিতে বিষ প্রয়োগ করেছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত ক্ষতিসাধন।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, কে বা কারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























