
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কলেজের উন্মুক্ত মাঠজুড়ে বাহারি পিঠা-পুলির স্টল। পাশ থেকেই স্পিকারে ভেসে আসছে লোকসঙ্গীতের সুর। সেই সুরের আড্ডায় পিঠার স্বাদে শেকড়ের সন্ধান করছেন মেলায় আগত শির্ক্ষাথীরা। চলছে ঐতিহ্যের গ্রামীণ জীবনকে খুঁজে ফেরা। আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে ও নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলার লোকায়িত সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজে প্রাঙ্গনে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পিঠা উৎসবের প্রধান অতিথি কলেজের সভাপতি যুগ্ম সচিব নুরুল হক এর পক্ষে সকালে পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য এ্যাড. সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পিঠা উৎসব কমিটির আহবায়ক সহকারী অধ্যাপক মোঃ শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন ম্যানেজার মোঃ নজরুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তার-ই ধারাবাহিকতায় এবছর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে ও নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলার লোকায়িত সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের এ শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে কলেজের পক্ষ থেকে আমরা এই রকম আয়োজন প্রতি বছর চালিয়ে যাব।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, পিঠা-পুলি যে বাংলার ঐতিহ্য তা এখনকার প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়েরা জানেনা। তাছাড়া ছাত্রছাত্রীদেরকে যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো, এটা যে শুধু একটা খাবার না, এটা একটা পণ্য এবং এটার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরী করা সম্ভব তা বুঝানো। আশা করি এধরনের আয়োজনে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা তৈরী হবে।
দিনব্যাপী চলা এ পিঠা উৎসবের ১২টি স্টলের মধ্যে স্থান পেয়েছে শতাধিক রকমের পিঠা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, মেড়া পিঠা, মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, ক্ষীরকুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, সুন্দরী পাকান, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেজপাতা পিঠা, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা, চাঁদ পাক্কন পিঠাসহ নানা বাহারি নামের পিঠা।





























