
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমী তিথিতে ভক্তদের নাচ-গান, ঢাকঢোল আর কাঁসর বাজিয়ে বিসর্জনের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গা ফিরে গেছেন কৈলাসে স্বামীর বাড়ি।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু করে ভোর ৫ টা পর্যন্ত উপজেলার গোমতী নদী ও তিতাস নদীসহ বিভিন্ন জায়গায় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয় ভক্তরা। বিসর্জনের পর থেকেই শুরু হয় সামনের বছরে দেবীর আগমনের জন্য ভক্ত-পুণ্যার্থীদের অধীর অপেক্ষা। রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিণীর কঠোর নিরাপত্তায় দেড় শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
এদিন সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়ে বিজয়ার প্রার্থনা জানান। অঞ্জলির মাধ্যমে দেবীর কাছে রোগ, শোক, ক্লেশ থেকে মুক্তি প্রার্থনা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। অঞ্জলি শেষে দর্পণ ও ঘট বিসর্জনের মাধ্যমে দশমীর পূজার আচার শেষ হয়। এরপর দেবীকে বরণ করে সিঁদুর খেলায় মাতেন হিন্দু ধর্মালম্বীরা। পরে শোভাযাত্রা সহকারে রাত ১২টায় প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় বিসর্জন স্থলে। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখর ছিল গোটা পরিবেশ। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর এই মুহূর্তে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সৃষ্টি হয় আবেগ ও মন খারাপের এক মিশ্র অনুভূতি। কারণ, দশমী মানেই এক বছরের জন্য তাদের দেবী দুর্গার বিদায়।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবীদুর্গা। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মধ্যে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব। প্রতিমা নিমজ্জনের মাধ্যমে মর্ত্যে কণ্যারূপে আসা উমা ফিরে যান কৈলাসে।
মুরাদনগর পূজা উদ্যাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর আনন্দ ও শান্তিতে পূজা উদ্যাপন হয়েছে। এবার উপজেলার ১৫২টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছে।
মুরাদনগরে প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেন উপজেলা প্রসাশন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।





























