
নারায়ণগঞ্জ–৩ (সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিল করে নতুন প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির এই আসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। গতকাল ১৮ নভেম্বর তারিখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক আবেদনপত্রে তাঁরা এ দাবি জানান। চিঠিটি মহাসচিবের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
আবেদনপত্রে বলা হয়, নতুনভাবে গঠিত নারায়ণগঞ্জ–৩ আসন সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক চরিত্র ও সিদ্ধিরগঞ্জের শিল্পসমৃদ্ধ এলাকার কারণে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের ভোটাররা সচেতন এবং বিএনপির প্রতি দীর্ঘদিনের আস্থাশীল। স্থানীয় নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করে এলেও প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়ে যাওয়া আজহারুল ইসলাম মান্নানকে এলাকাবাসী অনাগ্রহের চোখে দেখছেন। এতে দলের মধ্যে হতাশা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর সোনারগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি, নদীপথ নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুল অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সদস্যদের ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন নেতারা। পাশাপাশি তাঁর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জ্যেষ্ঠ নেতারা আরও দাবি করেন, সম্প্রতি সারা দেশে বিএনপি চাঁদাবাজি করছে—এমন বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় দল ইতিমধ্যেই বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। এই প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচন করলে কোনোভাবেই বিজয় সম্ভব নয় বলে তাঁরা মনে করেন।
দলের ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ নিজেদের মধ্যে থেকেই একজনকে মনোনয়ন দিতে অনুরোধ জানিয়ে নেতারা বলেন, “যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাকে নিয়েই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এবং আল মুজাহিদ মল্লিক।
চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদককে।





























