
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হয় ৩ নভেম্বর। ঘোষণার ১২ দিন পর এসে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। তাদের অভিযোগ—অপরিচিত ও রাজপথে অনুপস্থিত একজনকে মনোনয়ন দিলে এই আসনে জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তাই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তোলেন সাবেক এমপি আবুল কালাম, বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা ও শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল। এ সময় তাঁদের সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলো।
সংবাদ সম্মেলনে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “যাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি বিএনপির রাজনীতিতে ছিলেন না। তৃণমূলে রীতিমতো রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যেখানে যাচ্ছি, সবাই বলছেন—এ প্রার্থীকে আমরা চিনি না। এমন প্রার্থী দিয়ে জয়ের আশা করা অবাস্তব।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন–সংগ্রামে থাকা পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
সাবেক সাংসদ আবুল কালাম বলেন, “আগামী নির্বাচন খুব কঠিন হবে। গত ১৭ বছরে তৃণমূলের বহু নেতা–কর্মী নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের মূল্যায়ন না হলে রাজনীতি সংকটে পড়বে। পরীক্ষিত প্রার্থী ছাড়া এ আসনে জয় পাওয়া কঠিন।” তিনি এটিই তাঁর শেষ নির্বাচন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “ঘোষিত তালিকা প্রাথমিক। আমরা নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ করছি—নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং বিএনপিকে রক্ষা করুন। গত ১৬–১৭ বছরে কারা আন্দোলনে ছিলেন তা বিবেচনায় নিলে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।”
শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল বলেন, “যারা বিএনপির জন্য মাঠে কাজ করেছেন, তাদের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যাকে দেওয়া হয়েছে, তাকে কেউ চেনে না। অপরিচিত কাউকে এই আসনের মানুষ ভোট দেবে না।”
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।





























