
সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি), আলিম ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ধারায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২৩ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ হাজার ৪০০ জন এবং অকৃতকার্য ১০ হাজার ৭৬২ জন। গড় পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ বছর জেলায় মোট ৩২১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
জেলার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এইচএসসি-তে অংশ নেয় ২১ হাজার ৭৭৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ৩৬১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১০ হাজার ৪১৩ জন। পাশের হার ৫২ দশমিক ১৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৬ জন।
উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৪৫৮ জন কৃতকার্য এবং ৪ হাজার ৫১৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৬২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ উপজেলাতেই সর্বাধিক ২২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
বন্দর উপজেলায় অংশ নেয় ২ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থী; উত্তীর্ণ ৯৮৩, অকৃতকার্য ১ হাজার ৭০৫ জন। পাশের হার ৩৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
সোনারগাঁয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৪৬৮ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ ৮৬৫ জন, অকৃতকার্য ১ হাজার ৬০৩ জন। পাশের হার ৩৫ দশমিক ০৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।
আড়াইহাজার উপজেলায় অংশ নেয় ২ হাজার ১৬০ জন; কৃতকার্য ৯৭৫ এবং অকৃতকার্য ১ হাজার ১৮৫ জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ১৪ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ জন।
রূপগঞ্জে পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৪৮২ জন; উত্তীর্ণ ১ হাজার ৮০ জন, অকৃতকার্য ১ হাজার ৪০২ জন। পাশের হার ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন শিক্ষার্থী।
এদিকে, আলিম পরীক্ষায় জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯১৩ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৩৫ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭৮ জন। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৩৪ জন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আলিম পরীক্ষার্থী ছিল ৩১৫ জন; কৃতকার্য ২৭৭ এবং অকৃতকার্য ৩৮ জন। পাশের হার ৮৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন।
বন্দর উপজেলায় অংশ নেয় ১১১ জন; উত্তীর্ণ ৬১, অকৃতকার্য ৫০ জন। পাশের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
সোনারগাঁয়ে ১২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন উত্তীর্ণ এবং ৫০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৫৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
আড়াইহাজার উপজেলায় পাশের হার সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ১১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৭ জন কৃতকার্য এবং ১০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
রূপগঞ্জ উপজেলায় অংশ নেয় ২৪৭ জন; উত্তীর্ণ ২১৭, অকৃতকার্য ৩০ জন। পাশের হার ৮৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।
অন্যদিকে, এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৭৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০৪ জন, অকৃতকার্য ১৭১ জন। পাশের হার ৬৪ শতাংশ। এ ধারায় একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ ১৩৯ জন এবং অকৃতকার্য ৩৭ জন। পাশের হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
বন্দর উপজেলায় অংশ নেয় ২ জন; উত্তীর্ণ ১ জন, অকৃতকার্য ১ জন। পাশের হার ৫০ শতাংশ।
সোনারগাঁয়ে পাশের হার সবচেয়ে বেশি ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
আড়াইহাজারে ১১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯ জন উত্তীর্ণ এবং ৪২ জন অকৃতকার্য। পাশের হার ৬২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
রূপগঞ্জ উপজেলায় ১৫৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৬৭ এবং অকৃতকার্য ৯০ জন। পাশের হার ৪২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ফলাফল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়।
তিনি জানান, জেলায় পাশের হার কিছুটা কম হলেও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তদারকি জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





























