
ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে নাটকীয় এক ড্রয়ে শেষ হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিওঁর লড়াই। ফ্রান্সের গ্রুপামা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে ২-২ গোলে সমতা টানলেও ম্যাচের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা যার দুটি বড় ভুলে জয় হাতছাড়া হয়েছে সফরকারীদের।
ম্যাচের আগেই লিওঁর মিডফিল্ডার এবং ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড় নেমানিয়া মাটিচের সঙ্গে ওনানার কথার লড়াই ছিল সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোচিত। ওনানা দাবি করেছিলেন, “আমরা লিওঁর চেয়ে অনেক ভালো দল।” জবাবে মাটিচ বলেছিলেন, “ওনানা ইউনাইটেডের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে গোলকিপারদের একজন।”
মাঠেও সেই উত্তেজনার ছাপ পড়ে। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে ওনানার ভুলেই গোল পায় লিওঁ—থিয়াগো আলমাদার ফ্রি-কিক সরাসরি জালে প্রবেশ করে, গোলরক্ষক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেননি।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঘুরে দাঁড়ায়। তরুণ ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরো ম্যানুয়েল উগারতের নেওয়া শটে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে গোল করে সমতা টানেন। ক্লাবটির ইতিহাসে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগীতায় গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী ডিফেন্ডার এখন ইয়োরো।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও সুযোগ পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি জোশুয়া জার্কজি। ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে ৮৭তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় সফরকারীদের।
তবে জয় উদযাপনের প্রস্তুতি যখন শুরু, তখনই আসে আরেক নাটকীয় মোড়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে জর্জেস মিকাউতাদজের শট ওনানা ঠেকাতে পারলেও, বলটি সরাসরি রায়ান চেরকির সামনে চলে আসে। ফরাসি ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেন সমতাসূচক গোল।
এই ড্র ইউনাইটেডের জন্য হতাশাজনক হলেও, ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে তাদের সামনে। তবে ওনানার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ম্যাচের পর অনেক ইউনাইটেড সমর্থকই সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ঝেড়েছেন তার প্রতি।
ইউরোপা লিগে এখনো পর্যন্ত অপরাজিত রুবেন আমোরিমের দল এই ম্যাচে থেকেও কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিতে পারবে। তবে ফিরতি লেগের আগে দুই দলের মধ্যে মানসিক চাপটা এখন স্পষ্টই ইউনাইটেড শিবিরে।







































