
বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, “এই ধরনের অপপ্রচার মূলত বিরোধীপক্ষেরই উপকারে আসে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাবমূর্তি। আমাদের উচিত দলের ঐক্য ও মর্যাদা রক্ষা করা।”
শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মাসুদুজ্জামান বলেন, “গত ২২ সেপ্টেম্বর আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেছি। সেই অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি জানান, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। “আমাদের উচিত মতবিরোধকে বিভেদে রূপ না দেওয়া,” বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে দলীয় মনোনয়নের দৌড় থেকে দূরে রাখতে এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিএনপির ‘ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবার’ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তিনি বলেন, “একটি মহল আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে আমার বিরুদ্ধে মামলা সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই মামলার যাবতীয় প্রস্তুতিও তারা নিয়ে রেখেছে।”
মাসুদ জানান, যে গ্রুপটিকে এই ষড়যন্ত্রের জন্য ভাড়া করা হয়েছে, তারা নিজেরাই বিষয়টি তাঁর কাছে প্রকাশ করেছে। “ঐ গ্রুপের একজন প্রথমে আমাকে ফোন করে বলে, আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। পরে আমি তাদের আমার অফিসে আসতে বলি,” বলেন তিনি।
“তারা অফিসে এসে জানায়, এই মামলার জন্য ৩০ লাখ টাকা ভাড়া ঠিক করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানায়, ষড়যন্ত্রকারীদের নির্দেশ অনুযায়ী মামলা দায়েরের পরপরই প্রায় এক হাজার লোক নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করবে—যাতে আমাকে দলের কাছে হেয় করা যায় এবং মনোনয়ন না দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিট এবং দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”
বিএনপিতে যোগদানের পেছনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলেও জানান মাসুদুজ্জামান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অতীতে আমি নীরবে দলের জন্য কাজ করেছি। এখন আরও দৃঢ়ভাবে, সংগঠিতভাবে এবং প্রকাশ্যে কাজ করতে চাই—যাতে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয় ও জনগণের আস্থা ফিরে পায়।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তবে অচিরেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবারও বিজয়ের পথে এগিয়ে যাবে।”





























