
জাহিদ হাসান মুক্তার, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিকিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের তালা ভেঙে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক অফিস সরঞ্জামাদি চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে—দুটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি ফটোকপি মেশিন, একটি ল্যাপটপ, স্ক্যানার, ওয়েব ক্যামেরা, সাধারণ ক্যামেরা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, সোলার প্ল্যান্টের ব্যাটারি ও ফ্যান, মডেমসহ অন্যান্য বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র। আনুমানিকভাবে এসব মালামালের মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।ঘটনার বিষয়ে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ মে) বিকেল ৫টার দিকে নিয়মিত কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, চেয়ারম্যান ও সচিব পরিষদের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ করে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। পরদিন মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ৯টার দিকে ইউপি সচিব ফেরদৌসি বেগম অফিসে এসে তাঁর কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান অফিস কক্ষের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিখোঁজ। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তাদের জানানো হয় এবং পরিষদের অন্যান্য কক্ষও পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, মূলত ডিজিটাল সেন্টার লক্ষ্য করেই চুরির এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাতের কোন একসময় ডিজিটাল সেন্টার কক্ষের তালা ভেঙ্গে কে বা কারা ফটোস্ট্যাট মেশিন, কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এ ঘটনায় গত বুধবার পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।"এদিকে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।চুরি সংক্রান্ত এই অভিযোগের বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার কক্ষে চুরির লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দ্রুত সময়ে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী ও পরিষদের সদস্যরা।





























