
মে ৩১— মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রবেশের শেষ দিন। সে দিন বিমানবন্দর থেকে আশাহত হয়ে ফিরতে হয়েছে কুয়ালালামপুর গমনেচ্ছু হাজার হাজার কর্মীকে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসব কর্মী কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করেও; দেশটিতে যেতে পারেননি, তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন!
সম্প্রতি কথা হয়েছে আশাহত কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই জমি বিক্রি করে; স্বজন বা পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করে— এসব টাকা জোগাড় করেছেন। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে; অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গাঢাকা দিতে হয়েছে তাদের।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী— ৩০ মে রাত থেকে বিমানবন্দর বা আশপাশের এলাকায় জড়ো হন হাজার হাজার মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু। লাখ লাখ টাকা খরচ করে; বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছানো এসব কর্মীর মধ্যে অনেকেই যেতে পারলেও; আশাহত হতে হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি কর্মীকে। তারা দালাল বা বিভিন্ন এজেন্সিকে যে টাকা দিয়েছেন; তা এখনও ফেরত পাননি। পাবেন কিনা সেটা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।
আমরা ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন পার করছি। সুদে টাকা ধার নিয়েছি। বাড়ি গেলেই সুদের টাকা দিতে হবে। কিন্তু কীভাবে দেব? এখন পালিয়ে দিন কাটাচ্ছি।’
কর্মীরা বলছেন— ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে; আদৌ বাড়ি ফেরা হবে কিনা তাও জানা নেই তাদের। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলছে, মালয়েশিয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
যদিও সপ্তাহখানেক পার হলেও; সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে কী আছে এবং মালয়েশিয়াকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানাতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদনটি নিয়ে কাজ চলছে। সেখান থেকে জবাব পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মো. রাব্বি হোসেন মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু আশাহত একজন কর্মী। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার এই বাসিন্দা নোমান নামের এলাকার এক দালালকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। শুধু রাব্বি নন, একই এলাকার মো. মাসুদ বয়াতি, ইকবাল ও আসাদুল্লাহ নামের আরও তিনজন একই পরিমাণ অর্থ নোমানকে দেন। কিন্তু তারা কেউ মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। এখন অর্থ ফেরত না পেয়ে পালিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
রাব্বি বলেন, ‘আমরা ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন পার করছি। সুদে টাকা ধার নিয়েছি। বাড়ি গেলেই সুদের টাকা দিতে হবে। কিন্তু কীভাবে দেব? এখন পালিয়ে দিন কাটাচ্ছি।’
এর আগে সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ছাড়পত্র নিয়েও; কয়েক হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যেতে না পারার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত রোববার এসংক্রান্ত এক রিট আবেদনে প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মৌখিক আদেশ দেন।





































