
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সড়কের পাশে পড়ে থাকা মস্তকবিহীন অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধারের চার দিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরকীয়াজনিত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬)। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাসিন্দা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
পিবিআই জানায়, নিহত যুবকের নাম আবরাহাম খান ওরফে আলিম খান (২৭)। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার চরদুর্বলতদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজার থানাধীন শ্রীনিবাসদী এলাকায় বালুর মাঠসংলগ্ন রাস্তার পাশে তার মস্তকবিহীন লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্তভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে জানা যায়, নিহত আবরাহাম খানের সঙ্গে গ্রেপ্তার রুহুল আমিনের খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ব্যক্তি ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুহুল আমিন, তার খালা ও আরও কয়েকজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআইয়ের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর নিহতকে রাজবাড়ীর পাংশা থেকে আড়াইহাজারে ডেকে আনা হয়। সেখানে তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরিচয় গোপন করতে মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে মাথা, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও নিহতের পোশাক একটি ব্যাগে ভরে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয়দের সহায়তায় খাল থেকে নিহতের খণ্ডিত মস্তক, দা এবং জ্যাকেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





























