
মাসুদ রানা,পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
"সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা। কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী চাষী কবিতায় যতার্থই বলেছেন ঝর বৃষ্টি খড়া সব উপেক্ষা করে কৃষক একের পর এক ফসল ফলায় এক ফসল ঘরে তুলতেই আরেক ফসলের প্রস্তুতি।
বোরো ধান কাটা শেষ হতে না হতেই আবার আউশ চাষে ব্যস্ত কৃষক।
দেশের উত্তরের জনপদ ভারত সীমান্ত ঘেষা বরেন্দ্র অধ্যুষিত নওগাঁ জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত পত্নীতলা উপজেলায় মাঠ মাঠে চলছে আউশ ধান রোপণ। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক শ্রমিকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে চলতি আউস মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস আউশ ধান চাষে কৃষকদের আকৃষ্ট করতে কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বীজ ও সার পেয়ে কৃষকরা আরো উৎসাহী হয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রণোদনার আওতায় ৪ হাজার ৫শ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ডি.এ.পি-১০কেজি,এম.ও.পি-১০ কেজি ও ধানবীজ-৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ,উঠান বৈঠক,মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবার উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৪৮,ব্রিধান-৫৬ ব্রিধান-৯৮সহ স্থানীয় জাতের আউশ ধান রোপণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় আউশ ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক শ্রমিকরা ।কেউ জমিতে মই দিচ্ছে,কেউ চারা তুলে দিচ্ছে,কেউ রোপণ করছে।আউশ ধান রোপণ চুক্তিতে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৬শ টাকা করে নিচ্ছে কৃষি শ্রমিকরা।
উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের নাদৌড় গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র মহন্ত বলেন, তিনি এবার প্রায় ৫ বিঘা জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছেন। গত বছরের তুলনায় কৃষিশ্রমিক অনেক সংকট।আউশ ধান রোপণের খরচও এ বছর বেশি। আষাঢ় মাস শুরু হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় পানি সেচমূল্য দিয়ে আউশ ধান রোপণ করতে হচ্ছে। এজন্য একটু বিলম্ব হয়েছে। আবার বৃষ্টির জন্য অনেকে অপেক্ষা করছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন,আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হবে। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে আছে।





























