
নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টাদের কথায় পূর্ণ ভরসা পাচ্ছে না বিএনপি। তাদের চাওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে শিগগির রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে রোডম্যাপের বিকল্প দেখছেন না তারা। দেশের চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্যের পাশাপাশি নির্বাচন আয়োজন জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে সরকারকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে মনোযোগ দিতে হবে। নির্বাচন যত দেরি হবে সংকট তত বাড়বে।
‘আগামী বছরই রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকার দেখব’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল এক অনুষ্ঠানে ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা খুব স্বল্পকালীন সরকার, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আগামী বছরই হয়তো রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার দেখব। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত, জানি না কী হবে।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থ্যানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা। এরপর গত ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়। তারা দেশের অর্থনীতি, নির্বাচন ও পুলিশ ব্যবস্থাসহ নানা অঙ্গনে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেছে সরকার। সবগুলো বৈঠকে বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদীন বলেন, দেশ চালানোর জন্য রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন। যাদের দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ জন্যই জনগণের দাবি দ্রুত নির্বাচন দেওয়া। উপদেষ্টা ভালো বার্তা দিয়েছে। আশা করছি ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টাও বলেছেন যত দ্রুত সম্ভব তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান। আমরা ভরসা রাখতে চাই।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ছাড়া জনগণ কোনো কথায় ভরসা রাখতে পারবে না। জনগণ ১৫ বছর ধরে ভোট দিতে পারছে না। তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নির্বাচন নিয়ে একেক সময় একেক কথা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। প্রধান উপদেষ্টা রোডম্যাপ ঘোষণা করলে সব জল্পনা দূর হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, সরকারের কাজের গতির ওপর নির্ভর করবে, কত দ্রুত তারা নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। এর আগে দ্রুত সংস্কার কাজগুলো শেষ করা দরকার। নির্বাচনের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সংস্কার করা উচিত। আমাদের দাবি অল্প সময়ের মধ্যে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, উপদেষ্টার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। আমরা নির্বাচনি রোডম্যাপ ছাড়া কোনো কিছু বড় করে দেখতে চাই না। রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে বিভ্রান্তি দূর হবে না।
বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টার মুখ থেকে নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা শুনতে চাই।
উপদেষ্টারা যা বলেন তা তাদের ব্যক্তিগত মতামত। সরকারকে দ্রুত নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন কবে হবে এটা জানার অধিকার আছে জাতির। সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের বিশ্বাস ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে-যদি সরকার আন্তরিক হয়। অর্থাৎ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কাজগুলো যদি সরকার এখনই শুরু করে দেয়।







































