
শফিক রিয়ান বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তিনি একাধারে ফিচার লেখক, কবি ও ঔপন্যাসিক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পাশ করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত বইসমূহ- আজ রাতে চাঁদ উঠবে না (২০২১), বিধ্বস্ত নক্ষত্র (২০২২), মেঘ বিষাদের দিন (২০২২), নিষিদ্ধ করে দাও সূর্যাস্ত (২০২৩), বিষাদের ছায়া (২০২৪)। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে নতুন বই বিসর্জন। সম্প্রতি বইমেলা ও বই প্রকাশ সম্পর্কে দৈনিক আলোকিত সকালের সঙ্গে কথা বলেছেন শফিক রিয়ান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানজিদ শুভ্র…
লেখালেখি নিয়ে আপনার ব্যস্ততা কেমন?
- নাহ, ব্যস্ততা নেই। ব্যস্ততা অনুভব করি না। লিখি তো নিজেকেই, নিজের জীবনকে, নিজের আশেপাশের ঘটনাগুলোকে। অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় না। যা দেখি, তা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করি মাত্র। আমার আবার কীসের ব্যস্ততা! বরং উপভোগ করি সময়গুলোকে। উপভোগের সময়কে ব্যস্ততা মনে হয় না।
আসন্ন বইমেলায় আপনার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে বলুন?
- আসন্ন অমর একুশে বইমেলায় আমার একটি উপন্যাস প্রকাশ হতে যাচ্ছে। উপন্যাসটি নাম ‘বিসর্জন’। এটি প্রকাশ করবে উপকথা প্রকাশন। ইতোমধ্যে প্রকাশনীর প্রায় সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি বইমেলার প্রথমদিন থেকেই পাঠক বইটি হাতে পাবেন।
লেখালেখির অনুপ্রেরণা আসলে কোথায় পেয়েছেন?
- নিজের জীবনবোধের কাছে। হতাশার কাছে। আমার লেখক জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার জীবনবোধ। এক বুমেরাং হতাশার জীবনকে যাবন করেছি দীর্ঘকাল। কিবোর্ড খুলে মনকে লিখার চেষ্টা করতাম। লিখা শেষে লম্বা চাপে ব্যবহার করতাম ব্যাকস্পেস। কিবোর্ড হাতড়ে দেখতাম, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছি ব্যাকস্পেস। তারপর হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম, জীবনকে লিখতে শুরু করব। ব্যাকস্পেসের পরিবর্তে ‘ট্যাব’ চেপে নতুন অধ্যায় শুরু করব। সেদিনের পর থেকেই শুরু। আমার জীবনই আমার প্রেরণা।
বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং আসক্তি দূর করতে সাহিত্যের ভূমিকা কতটুকু?
- প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় তথ্য প্রযুক্তিকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা তো সম্ভব নয়। তবে সেটা আসক্তির পর্যায়ে চলে গেলে, ব্যাপারটা উদ্বেগজনকই খানিকটা। আমার নিজেরও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতি ঝোঁক অনেক। ঝোঁকটা অবশ্য আমার প্রয়োজন অব্দিই সীমাবদ্ধ। প্রয়োজনের বাইরে খুব একটা সময় ব্যয় করি না। তবে, যখন আমি সাহিত্যের ভেতরে থাকি, আমি সম্পূর্ণ আলাদা একটা জগতে বাস করি। তখন আমার দুনিয়া আমি নিজে তৈরি করি। সেখানে তথ্য প্রযুক্তির জায়গা নেই। আমার মনে হয়, নিজেকে বইয়ের সাথে সম্পৃক্ত রাখতে পারলে প্রযুক্তির হাত থেকে নিজেকে অনেকটা মুক্ত রাখা সম্ভব। সাহিত্যের আসক্তি যাকে ছুঁতে পারে, সে অন্য সকল আসক্তির থেকে মুক্ত।
ছাপা বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক তৈরির বিষয়ে কী ভাবছেন?
ই-বুকের মাধ্যমে পাঠকের ডিজিটাল মাধ্যম-নির্ভর তরুণ প্রজন্মের মাঝে পাঠাভ্যাস পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে, এক্ষেত্রে এটি ভুলে যাওয়া অনুচিত যে, কাগজে মুদ্রিত বই পাঠের অভিজ্ঞতা এক ধরনের শৈল্পিক এবং আবেগঘন গভীরতার সাথে যুক্ত, যা পাঠকের মনোজাগতিক বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে। একটি বইয়ের গন্ধ, পৃষ্ঠাগুলি উল্টানোর স্পর্শ এবং কভার ডিজাইনের অনুভূতি কখনোই ডিজিটাল মাধ্যমে পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত হতে পারে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
- ব্যক্তিজীবনে আমি খুবই অগোছালো। এই অগোছালো ভাবের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছুই করা হয় না। পরিকল্পনা অনেক করা হয়, বাস্তবায়ন হয় সামান্য। তবে, এবার বেশ কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছি। আশা করছি, এবার সব সুন্দরভাবেই সম্পন্ন করতে পারব। চিত্রনাট্য লেখার কাজে হাত দেবো পাকাপোক্তভাবে। এটা আমার স্বপ্ন বলতে পারেন। নিজেকে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছি। আশা করছি, এই দ্বিতীয় ইচ্ছেটাও সার্থকভাবেই পূরণ করতে পারব।
/শুভ্র







































