
ফজলুল করিম শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
শেরপুরে নানা আয়োজনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে । ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী সাধুলিওর ধর্মপল্লীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা নিয়ে আসা এই দিনটি পালনে জেলার ৫২টি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
দিনের শুরুতে ভোর থেকেই জেলা শহরের ৭টি গির্জাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বড়দিন উপলক্ষে প্রতিটি গির্জাকে বর্ণিল আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি এবং যিশুর জন্মের প্রতীকী গোশালা দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। ঝিনাইগাতীর ঐতিহাসিক মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লী এবং নালিতাবাড়ীর বারমারী গির্জায় এ বছর সবচেয়ে বড় সমাগম দেখা গেছে।
মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীতে প্রার্থনা পরিচালনা করেন পালপুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু, (সিএসসি)। প্রার্থনা শেষে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বড়দিন মানেই হলো আনন্দ, ক্ষমা এবং পুনর্মিলনের উৎসব। যিশু খ্রিস্ট এই পৃথিবীতে এসেছিলেন মানুষের মুক্তি এবং শান্তির বার্তা নিয়ে। আজকের এই দিনে আমাদের প্রার্থনা হলো—পৃথিবী থেকে যেন যুদ্ধ-বিগ্রহ, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়। আমরা শেরপুরবাসী দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে আসছি। আজকের এই উৎসব শুধু খ্রিষ্টানদের নয়, বরং এটি সকল ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেশ ও জাতিকে শান্তিতে রাখুন এবং প্রতিটি মানুষের জীবন আনন্দময় করে তুলুন।"
বড়দিনের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গির্জা প্রাঙ্গণগুলোতে মেলা এবং আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের পল্লিগুলোতে বড়দিনের আমেজ সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে। সন্ধ্যা থেকে প্রতিটি খ্রিষ্টান পরিবারে বিশেষ ভোজ ও নগর কীর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া শেরপুর শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বড়দিন উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি গির্জার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন গির্জা পরিদর্শন করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত শেরপুরে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বড়দিনের এই উৎসব এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।




































