
ফজলুল করিম শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুর জেলার কৃষকেরা ধান ছেড়ে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ভুট্টা চাষের খরচ কম থাকায় এবং চাষাবাদ সহজলভ্য হওয়ায় শেরপুর জেলায় বাড়ছে ভুট্টার চাষ। সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার আবাদি অনাবাদি জমি সহ কৃষি জমি যেগুলোতে আগে ধান চাষ করা হতো, সেসব জমিতে এখন ভূট্টার আবাদ হচ্ছে। চারিদিকে তাকালেই শুধু দেখা মেলে সারি সারি ভূট্টা গাছের।
সীমান্তবর্তী ধানশাইল ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এবছর ভিক্টোরিয়া ১১৫৫ জাতের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা চাষ করে একর প্রতি ১১০ থেকে ১২০ মন পর্যন্ত ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে। ভুট্টার দাম মন প্রতি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা হওয়ায় লাভও হচ্ছে দ্বিগুণ। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকেরা ধান চাষ বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষের দিকেই ঝুঁকছেন।
স্থানীয় ফেয়ার এগ্রো কেমিক্যাল সার্ভিস এর মার্কেটিং অফিসার আবু শামা লিটন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের ভিক্টোরিয়া ১১৫৫ জাতের ভূট্টা চলতি মৌসুমে একরপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ মণ ফলন হওয়ায় কৃষকেরা খুব খুশি। আমরা আমাদের কোম্পানির সরাসরি তত্ত্বাবধানে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করেছি।তারা জানিয়েছেন একরপ্রতি ফলন ১২০ মণ হয়েছে। আমরা লাভবান হবে।
এব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান,আমাদের গারো পাহাড়ের পাদদেশের ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার আবার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভূট্টা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা ভোটার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। সেচ খরচ কম ফলন ভালো ও অধিক লাভ থাকায় ভূট্টার আবাদ বাড়ছে। বিগত অর্থ বছরে ঝিনাইগাতী উপজেলায় ভূট্টার আবাদ ছিল ১৩৭ হেক্টর।চলতি অর্থবছর আবাদ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩২২ হেক্টর। কৃষকেরা আমাদের জানিয়েছেন একর প্রতি খরচ ৪০ হাজার টাকা আর বিক্রি হচ্ছে এক লক্ষ টাকা অর্থাৎ একর প্রতি প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ভূট্টার আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।





























