
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সিলিন্ডার গ্যাসের বাজার এখন পুরোপুরি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। উপজেলার লামাগাঁও বাজারসহ প্রায় সব হাটবার ও বাজারে খিচুরির দোকান, সার ব্যবসার দোকান ও মেশিনারি পার্টসের দোকানসহ বিভিন্ন অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যেই সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। কোথাও নেই সরকারি অনুমোদন,নেই নির্ধারিত মূল্য তালিকা,এমনকি নেই ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে ভোক্তারা একদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা।ভোক্তাদের অভিযোগ,এক কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাস শেষ হলে অন্য কোম্পানির গ্যাস নিতে গেলেই শুরু হয় নতুন হয়রানি। রেগুলেটর ও সংযোগের অমিল দেখিয়ে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো রেগুলেটর অকার্যকর বলে জোর করে নতুন রেগুলেটর কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে কোম্পানি পরিবর্তনের নামেই ভোক্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লামাগাঁও বাজারের এক ভোক্তা জানান, বাজারের একটি মেশিনারি পার্টসের দোকানে গ্যাস কিনতে গেলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য তার কাছে ১৮ থেকে ১৯শ টাকা দাম চাওয়া হয়। পরে তার সিলিন্ডারটি ভিন্ন কোম্পানির হওয়ায় ওই দোকান থেকে গ্যাস বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এতে বাধ্য হয়ে তিনি এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও নির্ধারিত দামে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারেননি।ওই ভোক্তার ভাষায়,গ্যাস আছে, কিন্তু কোম্পানি আলাদা হলেই দেবে না। দাম চাইছে ইচ্ছেমতো, আবার গ্যাসও দিচ্ছে না। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?স্থানীয়রা জানান,কয়েকদিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দোকানভেদে দামের বড় পার্থক্য থাকলেও কোথাও কোনো মূল্য তালিকা টাঙানো নেই। দাম জানতে চাইলে বিক্রেতারা সিন্ডিকেটের অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,এই চিত্র শুধু লামাগাঁও বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। তাহিরপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাটবার ও বাজারেই একই অনিয়ম চলছে। অননুমোদিত দোকানে গ্যাস বিক্রি,নিরাপত্তাহীন সংরক্ষণ ও ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ—সব মিলিয়ে এটি একটি সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বলেই মনে করছেন তারা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির জন্য ব্যবসা লাইসেন্স, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা ছাড়পত্র, নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত মূল্য তালিকা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই উপজুড়ে গ্যাস বিক্রি চলছে,যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।সচেতন মহলের প্রশ্ন—এত অনিয়ম প্রকাশ্যেই চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি কোথায়? দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান না হলে এই সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তির পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।





























