
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
অনুর্দ্ধ ১৯ জাতীয় নারী ফুৃটবল দলের সদস্য রাজিয়া সুলতানা সন্তান জন্মদানের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৃহষ্পতিবার (১৪ মার্চ) ভোর চারটার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের লহ্মীনাথপুর গ্রামের বাপের বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলার লহ্মীনাথপুর গ্রামের মৃত নূরালী সরদারের ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম সরদার জানান, তার বোন রাজিয়া সুলতানা পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে ছোট। সে অনুর্দ্ধ ১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে বর্তমানে খেলাধুলা করছে। এর আগে সে অনুর্দ্ধ ১৪, অনুর্দ্ধ -১৫, অনুর্দ্ধ -১৬, অনুর্দ্ধ -১৭ ও অনুর্দ্ধ ১৮ দলে সুনামের সঙ্গে খেলা করেছে। দেশে ও দেশের বাহিরে ভারত, চায়না, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, তাজাকিস্তান ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে ফুটবল খেলে খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সে অনেক পুরষ্কার পেয়েছে।
নজরুল ইসলাম আরো জানান, উভাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বঙ্গমাতা ফজিতালুন্নেছা ফুটবল টিমে খেলার সুবাদে রাজিয়ার সুখ্যাতি বাড়ে। পরবর্তীতে সে কুশুলিয়া কলেজিয়েট স্কুল থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনার সময় ফুটবল প্রাকটিস করতো। ২০২০ সালে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার পাম হাউজ এলাকায় ইয়াম রহমানের সঙ্গে রাজিয়ার বিয়ে হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা গাজীপুরে পরমল গ্রুফ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত রয়েছেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে বাবার বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে তার শরীরের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে অচেতন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল বলে ডাঃ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন। বৃহষ্পতিবার বাদ আসর বাড়ির মাসের মসজিদের মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে। বর্তমানে রাজিয়ার সদ্যজাত পুত্র সন্তানটি সুস্থ আছে বলে জানান তিনি।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহীন নারী ফুটবলার রাজিয়া সুলতানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদ মেহেদি জানান, ফুটবলার রাজিয়া সুলতানা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। গতকাল রাত ১০টার দিকে তিনি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। পরে রাত ৩টায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফুটবল প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় ছিলেন রাজিয়া। পরবর্তী সময়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সদস্য হয়ে খেলার সুযোগ হয় তার। সবশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় নারী ফুটবল টিমের সদস্য ছিলেন রাজিয়া। একবার ভুটানে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। তার অকাল মৃত্যুর খবরে আমরা সকলে শোকাহত। গত এক বছর তিনি খেলার বাইরে ছিলেন বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।







































