
কারবালার ময়দান ছিল কেবল যুদ্ধক্ষেত্র নয়, ছিল মানবতা, ন্যায় ও আত্মত্যাগের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। চৌদ্দশো বছর আগের সেই রক্তিম ইতিহাস আজও চোখে জল আনে, হৃদয়ে জাগায় প্রতিবাদের দীপ্ত আলো। ইমাম হুসাইন (আঃ) ও তাঁর পরিবার–পরিজন মিলে ৭২ জন সহচর একে একে শহীদ হয়েছিলেন, অথচ তাঁদের এক ফোঁটা পানিও পাওয়া যায়নি। সেই তৃষ্ণা আজও মুসলিম হৃদয়ে বয়ে চলে, স্মরণ করায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও মানবতার পাশে থাকার শিক্ষা।
এই ইতিহাসের প্রেরণায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ত সড়কে এক চমৎকার মানবিক আয়োজন চোখে পড়েছে। আহলে বায়াতে রাসুল (সাঃ) এবং শোহাদায়ে কারবালার স্মরণে ‘দারুল ইশ্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফ’ এর উদ্যোগে এবং মীম শরৎ গ্রুপ এর ব্যবস্থাপনায় শহরের পথচারীদের মাঝে দশ দিনব্যাপী বিশুদ্ধ পানির বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
২৭ জুন শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ফুল কুটির মোড়ে আয়োজনের প্রথম দিনটি ছিল দেখার মতো। গরমে হাঁপিয়ে উঠা রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, দোকানদার কিংবা পথচারীরা এই ঠান্ডা পানির এক গ্লাসে পেয়েছেন প্রশান্তি—শুধু দেহের নয়, হৃদয়েরও।
খানকা শরীফের খাদেম লতিফ সিদ্দিক রতন, তপু সারোয়ার, রকিবুল হাসান, বকুল সিকদার, এলভিন ভূঁইয়াসহ অনেকেই পরিশ্রম করছেন এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে।
মীম শরৎ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও খানকা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ এই উদ্যোগের পেছনে অনুপ্রেরণা। তিনি এই কাজটিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং সামাজিক দায় হিসেবেও দেখেন। খাদেমদের পক্ষ থেকে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের নিকট তার জন্য দোয়া কামনা করা হয়।
তিনি বলেন, কারবালার সেই ইতিহাস আজো আমাদের বলে, “ভুলে যেও না তৃষ্ণার্তদের কথা, কারণ আত্মত্যাগ শুধু অতীতে সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রেরণা হতে পারে প্রতিদিনের জীবনে।”





























