
স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের হাতিরঘাটা হাওরে একটি হাঁসের খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখনো লুটে নেওয়া হাঁস উদ্ধার হয়নি। এতে খামার মালিকের পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
গত সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে হাতিরঘাটা হাওরে খামার মালিক শিপন মিয়া (৩৫)-এর হাঁসের খামারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় শিপন মিয়া, তার ভাই হৃদয় মিয়া (২০) ও কর্মচারী সাকিব মিয়া (২৪) গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী শিপন মিয়া জানান, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের পানিয়াখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, জমসেদ মিয়া, তামজিদ মিয়া, মুনছুর মিয়া, আকিক মিয়া, ছয়ফুল মিয়া ও সামরান দেশীয় অস্ত্রসহ খামারে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ভাই ও কর্মচারীকেও মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা খামার থেকে হাঁস, খাদ্য, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও লুটে নেওয়া হাঁস এখনো উদ্ধার হয়নি, যা খামার মালিকের একমাত্র জীবিকার ওপর মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আহত তিনজন বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিপন মিয়া অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে খামারে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ফলে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ ঘটনায় শিপন মিয়া বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা লুট হওয়া হাঁস উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত লুট হওয়া হাঁস উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম, জমসেদ মিয়া, তামজিদ মিয়া, মুনছুর মিয়া, আকিক মিয়া, ছয়ফুল মিয়া ও সামরানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান হাঁস গুলো উদ্ধারে চেষ্টা চলছে,ও তদন্ত চলছে।





























